বাংলাদেশে বাড়ছে হাম—শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে

হাম (Measles) আবারও বাংলাদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা, যা এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্য উদ্বেগে পরিণত হয়েছে; এই রোগটি অত্যন্ত সংক্রামক এবং আক্রান্ত কেউ কাশি বা হাঁচি দিলে খুব সহজেই বাতাসের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি একই পরিবেশে থাকলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে, কারণ ভাইরাস কিছু সময় পর্যন্ত বাতাসে সক্রিয় থাকতে পারে।
বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক, কারণ ঢাকার সংক্রামক রোগ হাসপাতালে চলতি বছর মার্চ মাসেই প্রায় ২৫৫ জন অধিক রোগী ভর্তি হয়েছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে ছিল মাত্র ৬৯ জন, অর্থাৎ সংক্রমণ কয়েকগুণ বেড়েছে এবং হাসপাতালগুলোতেও চাপ বাড়ছে । চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই রোগের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই, তাই চিকিৎসা মূলত উপসর্গভিত্তিক—জ্বর কমানোর ওষুধ, পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার, এবং বিশেষ করে শিশুদের ভিটামিন-এ দেওয়া হয় যাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, পাশাপাশি নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিলে আলাদা চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে অক্সিজেন বা নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান কারণ হলো অনেক শিশু সময়মতো টিকা না পাওয়া বা টিকাদানে অনীহা, ফলে একটি “ইমিউনিটি গ্যাপ” তৈরি হয়েছে যার কারণে রোগ দ্রুত ছড়াচ্ছে, এবং বিশ্বজুড়েও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যেখানে টিকাদান কমে গেলে হাম দ্রুত ফিরে আসে তারা আরও সতর্ক করেছেন যে হাম কোনো সাধারণ জ্বর নয়, এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এমনকি মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে, বিশেষ করে অপুষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি; তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, শিশুদের সময়মতো Measles vaccine দেওয়া, অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা—এসবই এই রোগ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়, কারণ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে প্রতিরোধযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও সচেতনতার অভাবে হাম আবারও বড় আকারে ফিরে আসছে এবং এটি দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি স্পষ্ট সতর্ক সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

