দূরদর্শী কাব্য

নয়ন জুড়িয়া ছিল জগতের ঘুম, চারিপাশে ছড়িয়ে কুয়াশার ধুম। পল্লব ছুঁয়ে গেছে নির্মল কুয়াশা, নয়ন যেদিক যায় দেখে শুধু ধোঁয়াশা। চারদিক চুপচাপ, নেই কোনো শব্দ; দিবাকর হয়ে গেছে মেঘ-আড়ালে জব্দ। কনকনে ঠান্ডায় চারদিকে ক্লান্তি, মনে হয় জমে যাবে আছে যত ভ্রান্তি। ঠিক তখনই হায়, দিবাকর দেখা দেয়— ধরণীর বুকে তার কিরণ ছাড়ায়ে দেয়। কিরণের দেখা পেতে ছিল আঁখি চঞ্চল, দেখিবার পরে যেন হলো তাহা প্রাঞ্জল। হঠাৎ তখনই হায়, মৃদু হাওয়া বয়ে যায়, কুয়াশার বাধা ভেঙে কে যেন আসিতে চায়! চোখ তার দুর্বার, বর্ণিল কী রঙিন! স্বপ্নের ঢেউ যেন ছুটে চলে অনাবিল। তাহার স্পর্শে আজ মুখরিত চারিপাশ, কুয়াশার বাঁধ ভেঙে ছুটেছে আলোর রাশ। দেখিবার পরে তাকে আনচান করে মন, ধরণীর বুকে তাকে খুঁজে ফেরে সারাক্ষণ। যদি তার নাম হয় ‘দূরদর্শী কাব্য’, মেঘ-আড়ালে তাকে দেখা— এই যেন ভাগ্য।
লেখক: সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

