রবিবার, ৩ মে ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / ইসলাম / নিবন্ধ

মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক: ইসলামের আদর্শিক রূপরেখ

Author

মোহাম্মদ ইমরান খান , University of Dhaka

প্রকাশ: ২ মে ২০২৬ পাঠ: ৬ বার

পহেলা মে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়। এ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সভা-সমাবেশে তাদের অধিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়। বছরে অন্তত একদিন শ্রমিকদের কল্যাণের কথা স্মরণ করা হলেও বছরের অন্যান্য সময়ে তাদের ন্যায্য অধিকার প্রায়ই উপেক্ষিত হয়। সমাজে তাদের মানবিক মর্যাদাও যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। অনেক ক্ষেত্রেই মালিকরা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন নন এবং তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণও বজায় রাখেন না।

ইসলামে মনিবকে ‘রব’ বলা যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি শ্রমিককে ‘আবদ’ বা গোলাম বলা কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক হওয়া উচিত সহোদর ভাইয়ের মতো। তাদের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। উৎপাদন ব্যবস্থায় মালিক ও শ্রমিক একে অপরের পরিপূরক। শ্রমিক দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করবে, আর মালিক শ্রমিকের প্রতি সহানুভূতিশীল ও ন্যায়পরায়ণ আচরণ করবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মালিকদের উদ্দেশে বলেছেন—
‘তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদের তোমাদের অধীন করেছেন। সুতরাং তোমরা যা খাও, তাদেরও তা থেকে খেতে দাও এবং তোমরা যা পরিধান কর, তাদেরও তা থেকে পরতে দাও। তাদের সাধ্যের বাইরে কোনো কাজ চাপিয়ে দিও না। আর যদি এমন কাজ দাও, তবে তাদের সাহায্য করো।’ (সহিহ বুখারি)

মালিক কখনো শ্রমিকের সাধ্যের বাইরে কাজের বোঝা চাপিয়ে দিতে পারবে না, যা তার শারীরিক বা মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। অযৌক্তিকভাবে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা বা বেতন কমানোও অনুচিত। শ্রমিক নিয়োগের সময় চুক্তির মাধ্যমে কাজের ধরন, সময় ও মজুরি নির্ধারণ করা হলে মালিক তা পরিবর্তন করে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে না।

ইসলামে মালিক-শ্রমিক উভয়ের দায়িত্ব ও কর্তব্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মালিকের প্রধান দায়িত্ব হলো দক্ষ, সক্ষম, সৎ ও আমানতদার ব্যক্তিকে কাজে নিয়োগ করা এবং তার জন্য যথাযথ মজুরি ও সময় নির্ধারণ করা। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে—
‘নিশ্চয়ই তোমার জন্য উত্তম কর্মচারী সে-ই, যে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।’ (সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ২৬)

শ্রমিকের মজুরি প্রদানের বিষয়ে কিয়ামতের দিন জবাবদিহির ব্যাপারে নবী করিম (সা.) কঠোর সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন—
‘আল্লাহ তাআলা বলেন, কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করব। তাদের একজন হলো সে ব্যক্তি, যে শ্রমিক দ্বারা পূর্ণ কাজ আদায় করার পরও তার মজুরি প্রদান করেনি।’ (সহিহ বুখারি)

অন্যদিকে শ্রমিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে তাদের ওপর অর্পিত কাজ আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন করা এবং আমানতদারিতা বজায় রাখা। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যার মধ্যে আমানতদারিতা নেই, তার মধ্যে ঈমান নেই।’ তাই শ্রমিকের উচিত বিশ্বস্ততার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করা।

বর্তমান বিশ্বে কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, ন্যায্য মজুরি এবং আয়বৈষম্য নিয়ে মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করার একমাত্র কার্যকর উপায় হলো ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক নীতিমালা অনুসরণ করা। ইসলামি আদর্শ অনুযায়ী উভয়ের মধ্যে ইনসাফপূর্ণ সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করলে একটি সুস্থ ও মানবিক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

লেখক: সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!