জলবায়ু পরিবর্তন ও বজ্রপাত ঝুঁকি ।

জলবায়ু পরিবর্তন ও বজ্রপাতের ঝুঁকি
সোমনা আক্তার
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ দেশ। গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে বজ্রপাতের ঝুঁকি প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে যায়। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এই দুর্যোগ এখন বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গড়ে বছরে প্রায় ৩০০ জন মানুষ বজ্রপাতে নিহত হয়েছে। এক দশকে সাড়ে ৩ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। দেশজুড়ে চলমান দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ জন করে মানুষ বজ্রপাতে নিহত হওয়ার খবর সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান—একদিকে হিমালয় পর্বতমালা এবং অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর—এই অঞ্চলকে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় পরিণত করেছে।
অতীতে গ্রামীণ জনপদে প্রচুর তাল ও বড়গাছ ছিল, যা বজ্রপাতকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে মানুষকে সুরক্ষা দিত। কিন্তু বন উজাড় এবং উঁচু গাছপালা কমে যাওয়ায় বর্তমানে খোলা মাঠে থাকা কৃষক ও সাধারণ মানুষ সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে, এপ্রিল থেকে জুন মাসে হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রপাতের তীব্রতা সর্বাধিক থাকে।
বজ্রপাত এতটাই বেড়েছে, গ্রামের টিনের ঘরবাড়ির ওপরও বজ্রপাত হচ্ছে এবং ঘরের ভেতরে থাকা মানুষও গুরুতর আহত হচ্ছে। উন্মুক্ত স্থানের পাশাপাশি গাছের ওপরও বজ্রপাত হচ্ছে। ফলে এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এ সংকট মোকাবিলায় প্রাণরক্ষার্থে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে সচেতনতা সৃষ্টিতে সরকারকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বজ্রপাত থেকে রক্ষার করণীয় সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার চালানো উচিত। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে এ বিপদ থেকে রক্ষায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এ সমস্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে বজ্রপাত বৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই বজ্রপাত বৃদ্ধির মূল কারণগুলো দূর করতে হবে সবার আগে।
বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়; তাই এর কার্যকর প্রতিকার পেতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
লেখক :-
সোমনা আক্তার
শিক্ষার্থী, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ।

