সোমবার, ৪ মে ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

হকার মুক্ত ট্রেন চাই

Author

মোঃ শরীফুল ইসলাম , ঢাকা কলেজ, ঢাকা

প্রকাশ: ৪ মে ২০২৬ পাঠ: ৩ বার

বাংলাদেশের ট্রেন যাত্রা সব সময় সাধারণ মানুষের জন্য আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী একটি পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। শহর থেকে গ্রাম কিংবা দীর্ঘ দূরত্বের যাতায়াতে ট্রেনের উপর নির্ভরশীলতা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। কিন্তু অল্প ভাড়ার সুবিধা নিয়ে যখন যাত্রী চেপে বসেন বগিতে, তখনই শুরু হয় নতুন ভোগান্তি অনুমোদনহীন হকার বা ফেরিওয়ালাদের অবাধ চলাচল। বাংলাদেশ রেলওয়ে দুটি অঞ্চল রয়েছে। যথাক্রমে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে। পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে এবং পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতে অবস্থিত।

প্রতিদিনই লোক জন গ্রাম থেকে শহরে জীবিকার সন্ধানে শহরে পাড়ি জমায় এবং নিজ-নিজ কর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কর্মের ক্লান্তি দূর করার জন্য শহর থেকে শিকড়ের টানে গ্রামে বেড়াতে যায়। অনেকেই বৃদ্ধকালে গ্রামে চলে যায় জীবনের শেষ সময়টা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অতিবাহিত করতে।

ট্রেনে যাত্রা শুরু করার পর একের পর এক ফেরিওয়ালা ট্রেনে উঠছে- কেউ হাতে আমড়া, চানাচুর-ঝালমুড়ি, পেয়ারা, চিপস ও বিস্কুট ইত্যাদি পণ্য সামগ্রী। অনেকেই আবার শিশুদের খেলনাও বিক্রি করছে লোকজনের কাছে। শিশুরা খুব মজা করে খেয়েই চলেছে প্রতিনিয়ত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এসব খাবার জীবনের জন্য কতটা নিরাপদ?

যাত্রাপথে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরেও অনেকের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ সহ গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস চুরি হয়ে যাচ্ছে?। কিছু ধান্দাবাজ যাত্রাপথে মানুষের সব কিছু লোট-পাট করে নিয়ে যায়। অনেকের জীবনের শেষ সম্বলটুকু চুরি হয়ে যাওয়ায় একেবারে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই প্রতারণার শেষ কোথায়? মানুষের জীবনটা হয়ে যাচ্ছে মারাত্মক ঝাকিপূর্ণ, এসবের দায় কার? সম্প্রতি হকার সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করছে যা দেশের জনগণের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। যাত্রাপথে দেখা যায় ট্রেনে ১০-১২ জন পর্যন্ত হকারী করে। এতে যাত্রীরা বিরক্ত বোধ করে। অনেকে আবার ট্রেনের গেটে দাঁড়িয়েও হকারী করছে বিভিন্ন সামগ্রী- এতে যাত্রীদের টেনে উঠতে অনেক কষ্টকর হয়ে যায়। এসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটার ব্যাপক প্রবণতা রয়েছে। এ সকল সমস্যা প্রতিদিনই সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে তাই সকলকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন রয়েছে।

হকার একেবারে নির্মূল করা সম্ভব না কারণ অনেকেই এটাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। হকারি অনেকের আবার একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন তাই তাদের দিকেও নজর রাখতে হবে।

হকারদের জন্য নির্দিষ্ট একটা বিধিমালা প্রণয়ন করার প্রয়োজন। চলন্ত ট্রেনে হকারি করতে হলে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত হতে হবে। রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া ট্রেনে কোনো ব্যবসা পরিচালনা করার সুযোগ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, হকার নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ট্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। তারা মনে করেন, যাত্রীবাহী বগিতে হকার মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে অনুমোদিত বিক্রেতাদের জন্য আলাদা বগি নির্ধারণ করা যেতে পারে।

প্রয়োজনে নির্দিষ্ট কার্ড বা নাম্বার থাকতে হবে। বিকল্প উপায় হিসেবে হকারদের জন্য প্রতিটা স্টেশনে নির্দিষ্ট স্থান দেওয়া যেতে পারে। এতে ছিনতাই, চুরি-ডাকাতি অনেকাংশে কমে যাবে।

যাত্রীদের মতে, সাশ্রয়ী ভাড়া তারা চাই, কিন্তু অস্বস্তিকর যাত্রা নয়। রেলপথে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে হকারদের অবাধ চলাচল বন্ধ করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

মো. শরীফুল ইসলাম: শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।

লেখক: সদস্য, ঢাকা কলেজ।
লিংক কপি হয়েছে!