মা : উপমাহীন এক মহাকাব্য
NAZMUL ISLAM FARUQUE , Sonaimuri Alia
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ পাঠ: ৩১ বার
মা : উপমাহীন এক মহাকাব্য
মুফতি নাজমুল ইসলাম ফারুক
মা,
তোমাকে নিয়ে লিখতে বসলে
শব্দেরা নতজানু হয়ে যায়,
উপমারা হারিয়ে ফেলে তাদের অহংকার,
আর কবিতার কলম থমকে দাঁড়ায় বিস্ময়ে।
তুমি সেই বৃক্ষ,
যার ছায়ায় জন্ম নেয় জীবনের প্রথম স্বপ্ন;
তুমি সেই নদী,
যার স্রোতে ভেসে আসে ভালোবাসার প্রথম ভাষা।
তোমার চোখের গভীরে আমি দেখেছি
নিঃস্বার্থ দয়ার এক অনন্ত সমুদ্র,
যেখানে কোনো দাবি নেই,
নেই কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশা।
তুমি রাতের শেষ প্রহরে জেগে থাকা প্রদীপ,
ঝড়ের দিনে অবিচল আশ্রয়,
খর রৌদ্রের পথে শীতল বটবৃক্ষ,
অন্ধকারের বুকে জ্বলে থাকা নক্ষত্রের আলো।
নিজের ক্ষুধাকে বন্দী করে
তুমি সন্তানের মুখে তুলে দাও এক মুঠো হাসি;
নিজের স্বপ্নগুলো গোপনে বিসর্জন দিয়ে
গড়ে তোলো ভবিষ্যতের সোনালি প্রাসাদ।
তোমার আঁচল পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়,
যেখানে শেখা হয় ভালোবাসা,
ক্ষমা, মমতা, বিনয়
আর মানুষের মতো মানুষ হওয়ার পাঠ।
যখন পৃথিবী মুখ ফিরিয়ে নেয়,
তোমার দরজা তখনও খোলা থাকে;
যখন চারদিকে নেমে আসে পরাজয়ের অন্ধকার,
তোমার দোয়া হয়ে ওঠে আশার সূর্যোদয়।
মা,
তুমি কোনো একক শব্দ নও—
তুমি এক ইতিহাস,
এক সভ্যতা,
এক জীবন্ত মহাকাব্য।
তোমার পদধ্বনিতে জেগে ওঠে ঘরের শান্তি,
তোমার হাসিতে প্রস্ফুটিত হয় জীবনের বসন্ত;
তোমার অশ্রুতে কেঁপে ওঠে সন্তানের হৃদয়,
তোমার ভালোবাসায় ধন্য হয় সমগ্র পৃথিবী।
হে মা,
পৃথিবীর সকল কবিতা যদি একত্র হয়,
তবুও পূর্ণ হবে না তোমার মহিমার বর্ণনা;
কারণ তুমি শুধু মা নও—
তুমি মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে
মানবজাতির জন্য প্রেরিত
সবচেয়ে সুন্দর উপহার।
লেখক: সদস্য, Islamic Arabic University।