বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

“Trial by Media”

Author

মো সিয়াম বাবু , Begum Rokeya University, Rangpur.

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ পাঠ: ৬৮ বার

 

“পদ্মার পাড়ে খুন হওয়া আসমা; আক্কাস মোল্লা গ্রেপ্তার।”
বাক্যটি বোল্ড করে পত্রিকা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হলে ব্যাপারটা কী দাঁড়াবে, একবার ভাবুন তো?

এ আর ভাবার কি আছে? সহজেই বুঝা যাচ্ছে লোকটা দোষী। কোনো মতামত-বিশ্লেষণ ছাড়াই লোকটাকে দোষী সাব্যস্ত করর ফেলেছি। সহজ ভাষায় বিশ্লেষণ করলে দাড়ায় লোকটিই খুন করেছে এমন ধারনা তৈরি হয় আমাদের মাঝে।
কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে হত্যা মামলার বিষয়টা আদালতে পৌছানোর আগেই আমরা পেয়েগেছি খুনি কে। মিডিয়া ব্যাপারটি এমনভাবে উপস্থাপনা করে আমজনতা চোখ বন্ধ করেই লোকটাকে দোষী বলে ধরে নেয়। আইনি ভাষায়, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে এমন প্রচারকে “Contempt of Court” বা আদালত অবমাননা বলা হয়।

সহজ ভাষায়, আদালত রায় দেওয়ার আগেই সংবাদপত্র, টিভি, ইউটিউব, ফেসবুক, মিলে একজন মানুষকে “দোষী” বা “নির্দোষ” হিসেবে ঘোষণা করে দেওয়াকেই Trial by Media বলে।

কেন ঘটে?
প্রথমত: শব্দদ্বয়ের নির্বাচন, যেমন, অভিযুক্ত শব্দের ব্যাবহার না করে ‘চোর’, ‘অপরাধী’ বিভিন্ন শব্দের ব্যাবহার; যা মানুষের মধ্যে অতিসহজেই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
দ্বিতীয়ত: স্বভাবতই মানুষ অলস, আরামপ্রিয়। নিউজ ফিডে কিছু আসা মাত্রই আমরা সেটাকে বিশ্লেষণ না করে নিজেদের মতো রায় কমেন্ট করি শেয়ার করি অথবা পোস্ট করি।
আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের রক্তের মিশে গেছে হ্যাশট্যাগের ব্যবহার। কিছু না জেনে, না বুঝেই # JusticeForX # ArrestHim লিখে দিই। এতে ব্যাপারটা স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে চলে আসে।

উদাহরণ হিসাবে বলি,
ধরি, হেডলাইনের ঐ মামলার বিচারকার্য শেষ হতে প্রায় দুই বছর লাগলো।(যেহেতু বাংলাদেশে বিচার হবে দুই কেন, ১০ বছরেও একটা মামলার রায় পাওয়া যায় না।)
দুই বছর আগে ইউটিউব, নিউজপেপার, ফেসবুক মিলিয়ে আমরা ব্যক্তিটিকে দোষী হিসেবেই মেনে নিয়েছিলাম, এমনকি নির্দোষ রায়ের অপেক্ষাও করি নি, এর আগেই তাকে তিনি Guilty প্রমানিত। দুই বছর পর রায় আসলো, ‘প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস।’
এ কেমন কথা?
সে-তো দোষী, এখন নির্দোষ প্রমাণিত হলো কিভাবে? এই নিয়ে আবার মিডিয়ায় লেখালেখি, রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গদের দিকে আঙুল তোলা বা ঐ লোকটি কোন দলের সদস্য? এগুলো খুজে বের করে আবার নানান টালবাহানা, পোস্ট, নিউজ ইত্যাদি ইত্যাদি । যাক অতদূরে না যাই।
এখন লোকটার উপর যে এতো বড় দায় চাপিয়ে দিয়েছিলাম,সঠিক রায় পাওয়ার পর কি তার দেহ থেকে এই কলঙ্ক মুছবে? তার চাকরি, সম্মান, সামাজিক অবস্থান ফিরে পাবে? না কিছুই পাবে না, সবই শেষ।

এই Trail এর,
বিচারক (Judge): রিপোর্টার।
আদালত: টকশো, মিডিয়া প্লাটফর্ম।
রায়: জনমত বা ভাইরাল পোস্ট।

Trail by media এর ভালো দিক:
1. দুর্নীতি, অন্যায় সবার সামনে তুলে আনে।
2. জনগণকে সচেতন করে তোলে।
3. ভিকটিমের কথা বলে, প্রশাসনের উপর চাপ তৈরি করে।

Trail by media এর খারাপ দিক:
1. “প্রত্যেক নাগরিক নিরপরাধ যতক্ষণ না প্রমাণিত” – এই নীতির লঙ্ঘন।
2. নির্দোষ প্রমাণ হলেও সামাজিক দাগ মুছে না
3. বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।

বাংলাদেশের সংবিধানের Article 35 অনুযায়ী, ‘আইনের দৃষ্টিতে প্রত্যেক ব্যক্তি নিরপরাধ যতক্ষণ না তার অপরাধ প্রমাণিত হয়’। কিন্তু _Trial by Media_ তে সেটা উল্টো হয়ে যায়, ‘প্রত্যেক ব্যক্তি মিডিয়ার দৃষ্টিতে দোষী’ যা সরাসরি সংবিধানের ৩৫ নং অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে।

মিডিয়া একক একটি শক্তিশালী মাধ্যম যার মাধ্যমে নির্দোষ ব্যাক্তিকেও দোষী বা দোষী ব্যাক্তির বিচার কার্যেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। এছাড়াও বর্তমানে সংঘটিত সব আন্দোলনকে নতুন উদ্যোম দিচ্ছে মিডিয়া। যেমন বাংলাদেশের জুলাই অভ্যুত্থান, ভারতের বর্তমান ককরোচ পার্টি।

আমরা যা-ই পোস্ট করি বা শেয়ার করি তা যেন একটু ভেবে শেয়ার বা পোস্ট করি। সবকিছু জেনে, শুনে, সচেতন ভাবে পোস্ট শেয়ার করতে উদ্বুদ্ধ করাই এই পোস্ট লেখার উদ্দেশ্য।

লেখক: সদস্য, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।