লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত সাতক্ষীরার আশাশুনি : ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি ও জনজীবন
সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষের বসবাস। উপজেলাটি বাংলাদেশের অবহেলিত উপজেলার একটি। সাতক্ষীরা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এই উপজেলায় প্রায়শই লোডশেডিং দেখা যায়, যা স্থানীয় জনগণের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মেঘলা আবহাওয়া বা হালকা বৃষ্টির সময় লোডশেডিং বেড়ে যায়। সম্প্রতি তা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে, আবহাওয়া জনিত কোনো কারণ ছাড়াই দিনে গড়ে ২ থেকে ৩ বার লোডশেডিং হচ্ছে, যার প্রতিটি স্থায়িত্ব প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত গড়ায়। এতে করে উপজেলাবাসী পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। শুধু গৃহস্থালি নয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোও কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই গ্রীষ্মকালীন প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, অনলাইনে ক্লাস কিংবা পরীক্ষা দিতে পারছে না অনেকে।
লবণাক্ত এ অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য উপজেলার মানুষ পানির পাম্পের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে পানি সংকট।
আশাশুনি উপজেলার অধিকাংশ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন মৎস্য চাষের মাধ্যমে। এই অঞ্চলে গড়ে ওঠা অসংখ্য মৎস্য খামার শুধু স্থানীয় চাহিদা পূরণে নয়, বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমেও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। এসব চিংড়ি ও সাদা মাছ চাষের প্রজেক্টে বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য, বিশেষত পানির প্রবাহ ও অক্সিজেন বজায় রাখার জন্য। কিন্তু সাম্প্রতিক তীব্র লোডশেডিং এই মৎস্য খাতকে চরম সংকটে ফেলেছে। এতে মৎস্য চাষিরা পড়েছেন বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে। এই পরিস্থিতি কেবল স্থানীয় অর্থনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় জনগণ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে পল্লি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবগত করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এমতাবস্থায়, স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগকে অবিলম্বে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি।
হাবিব আল মিসবাহ
শিক্ষার্থী: আল-কুরআন এণ্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
মোবাইল: 01611563819
মেইল: hmh42242@gmail.com
