শরতের ৫ ফল
বাংলার ছয় ঋতুর প্রতিটি ঋতুই প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন রূপ ও স্বাদ নিয়ে আসে। বর্ষার সিক্ততা পেরিয়ে শরৎ যখন প্রকৃতিতে হাজির হয়, তখন আকাশে ভাসে সাদা মেঘের ভেলা, মাঠে দোলে কাশফুল আর গ্রামবাংলার পথে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। এই ঋতুর সৌন্দর্যের পাশাপাশি শরৎ আমাদের উপহার দেয় নানা ধরনের দেশি ফল। কিছু ফল শরতের শুরুতে পাওয়া যায়, আবার কিছু ফল শরৎজুড়ে গ্রামীণ হাট-বাজারে দেখা যায়। এসব ফল শুধু রসনা তৃপ্ত করে না, বরং বাংলার কৃষি, সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে।
তালঃ শরতের ফলের কথা উঠলেই প্রথমে মনে পড়ে তাল। ভাদ্র-আশ্বিনে পাকা তালের মিষ্টি ঘ্রাণ গ্রামবাংলার পরিবেশকে মাতিয়ে তোলে। তাল দিয়ে তৈরি হয় তালের বড়া, পিঠা, পায়েসসহ নানা মুখরোচক খাবার। পাকা তালের রস ও শাঁস যেমন সুস্বাদু, তেমনি তালগাছ বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতিরও একটি পরিচিত দৃশ্য। অনেক পরিবারের কাছে তাল সংগ্রহ ও তা দিয়ে নানা খাবার তৈরি করা শরৎকালীন ঐতিহ্যের অংশ।
পেয়ারাঃ শরতের আরেক পরিচিত ফল পেয়ারা। বর্ষার শেষ থেকে শরৎকালে অনেক অঞ্চলে পেয়ারা পাওয়া যায়। কচকচে পেয়ারা লবণ-মরিচ দিয়ে খাওয়ার স্বাদই আলাদা। গ্রামবাংলার বাজারে ঝুড়ি ভর্তি পেয়ারা কিংবা বাড়ির উঠানে পেয়ারা গাছ দুটিই শরতের পরিচিত দৃশ্য। পেয়ারায় ভিটামিন সি ও আঁশ রয়েছে, তাই এটি পুষ্টিকর ফল হিসেবেও বেশ জনপ্রিয়।
আমড়াঃ এ সময় আমড়াও পাওয়া যায় প্রচুর। টক-মিষ্টি স্বাদের আমড়া কাঁচা অবস্থায় লবণ-মরিচ দিয়ে খেতে যেমন ভালো লাগে, তেমনি আমড়ার ভর্তা, আচার ও চাটনিও অনেকের প্রিয়। স্কুলফেরত শিশুদের হাতে কিংবা গ্রামের বাজারের ছোট দোকানে আমড়ার উপস্থিতি শরতের দিনগুলোকে আরও প্রানবন্ত করে তোলে।
কামরাঙাঃ শরতের আরেক আকর্ষণীয় ফল। পাঁচ কোণার এই ফলটি দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমন বৈচিত্র্যময়। কাঁচা কামরাঙার টক স্বাদ অনেকের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। কামরাঙা কেটে লবণ-মরিচ ছড়িয়ে খাওয়ার আনন্দ শরতের বিকেলকে আরও উপভোগ্য করে তোলে।
ডেউয়াঃ শরৎকালের একটি পরিচিত দেশি ফল, যার স্বাদে রয়েছে বাংলার মাটির টান। পাকা ডেউয়া সাধারণত হলুদাভ রঙের হয় এবং এর ভেতরের নরম অংশ মিষ্টি ও সুস্বাদু। গ্রামবাংলায় একসময় বাড়ির আঙিনা ও বাগানে প্রচুর ডেউয়া গাছ দেখা যেত।ডেউয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামের মানুষের শৈশবের স্মৃতি ও দেশি ফলের ঐতিহ্য।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক দেশি ফলের গাছ কমে যাচ্ছে। বাড়ছে বসতভিটা ও কৃষিজমির পরিমান, কমছে পুরোনো ফলদ গাছ। ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো অনেক দেশি ফলের স্বাদ ও গন্ধ থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তাই দেশি ফলের গাছ লাগানো, পুরোনো গাছ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় ফলের চাষ বাড়ানো জরুরি।
