বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / ফিচার / নিবন্ধ

মা শব্দেই মেশানো অকৃত্রিম ভালোবাসা

Author

মোঃ মাজহারুল ইসলাম , সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬ পাঠ: ৯ বার

মা শব্দেই মেশানো অকৃত্রিম ভালোবাসা

 

 

 

 

মোঃ মাজহারুল ইসলাম

 

 

মা ছোট্ট একটি শব্দ কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ডাক। এই শব্দের অতলে লুকিয়ে থাকে গভীর স্নেহ, মমতা আর অকৃত্রিম ভালোবাসা। তাই তো মমতাময়ী মায়ের সম্মানে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্ব মা দিবস পালন করা হয়। তবে অনেকের মতে মাকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণের প্রয়োজন হয় না। মায়ের প্রতি প্রতিদিনই সন্তানের ভালোবাসা থাকে। বছরের একটি দিন মা দিবস পালন করা হয় তবে প্রকৃত সত্য হলো মা প্রতিটি মুহূর্তেই সন্তানের হৃদয়ে বাস করেন। মা হলেন আমাদের প্রথম স্পর্শ, প্রথম শব্দ, প্রথম ভালোবাসা এবং এমন একজন বন্ধু যিনি সকল বাধা বিপত্তিতে পাশে থেকে অনুপ্রাণিত করেন। পৃথিবীতে এসে আমরা যে প্রথম মুখটি দেখি সেটি মায়ের এবং জীবনের শেষ আশ্রয়ও মায়ের বুক। মা শুধু জন্মদাত্রী নন তিনি সন্তানের সুখ দুঃখের সাথী তাঁর স্বপ্নের পৃষ্ঠপোষক এবং জীবনের প্রতিটি বাঁকে আলো দেখানো পথপ্রদর্শক। মাকে নিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘মনে পড়া’ কবিতায় লিখেছেন

মাকে আমার পড়ে না মনে। শুধু কখন খেলতে গিয়ে হঠাৎ অকারণে একটা কী সুর গুনগুনিয়ে কানে আমার বাজে, মায়ের কথা মিলায় যেন আমার খেলার মাঝে। মা বুঝি গান গাইত, আমার দোলনা ঠেলে ঠেলে মা গিয়েছে, যেতে যেতে গানটি গেছে ফেলে।

 

 

 

বিশ্ব মা দিবস

 

 

 

 

আজ থেকে বহু বছর আগে এক কন্যা তাঁর মায়ের স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিলেন। ১৯০৫ সালে ফিলাডেলফিয়ায় মারা যান অ্যান রিভস জারভিস একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী যিনি সারাজীবন দরিদ্র ও অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পর কন্যা আনা জারভিস সংকল্প করলেন এই মহীয়সী নারীকে এবং পৃথিবীর সকল মাকে যথাযথ স্বীকৃতি দিতে হবে। শুরু হলো তাঁর দীর্ঘ প্রচেষ্টা। ১৯০৮ সালের ১০ মে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফটনে অ্যান্ড্রুজ মেথডিস্ট এপিস্কোপাল চার্চে প্রথম আনুষ্ঠানিক মা দিবসের অনুষ্ঠান পালিত হয়। এরপর ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে মা দিবস পালন ছড়িয়ে পড়ে এবং ১৯১৪ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন দিনটিকে জাতীয়ভাবে স্বীকৃত দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। যুক্তরাজ্যে মধ্যযুগ থেকে মাদারিং সানডে নামের একটি চার্চকেন্দ্রিক ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রচলিত ছিল যা বিংশ শতাব্দীতে আমেরিকান মা দিবসের অনুপ্রেরণায় মায়েদের সম্মানের দিন হিসেবে নতুন রূপ লাভ করে। এভাবেই শুরু হয় মা দিবসের বৈশ্বিক যাত্রা। আজ বাংলাদেশসহ অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, রাশিয়া ও জার্মানিসহ শতাধিক দেশে মর্যাদার সঙ্গে দিনটি পালিত হচ্ছে।

 

 

 

 

মায়ের ভালোবাসা তুলনাহীন

 

 

 

সাগরের তলদেশের গভীরতা মাপা গেলেও মায়ের ভালোবাসার গভীরতা কখনো মাপা যায় না। মা সন্তানকে তাঁর সর্বস্ব দিয়ে লালনপালন করে বড় করেন। জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে যখন পাশে কেউ থাকেন না তখনও মা থাকেন। সব উত্থান-পতনে যখন পুরো সমাজ সমালোচনায় মুখর সেই সময়েও মা পাশে থেকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। মা সৃষ্টিকর্তার এক অনন্য দান। তিনি সারাজীবন ছায়ার মতো পাশে থেকে সন্তানের জীবন সহজ করে তোলেন। কী যেন এক অলৌকিক ক্ষমতায় তিনি বুঝে যান সন্তান সুস্থ নেই, মনে কষ্ট আছে। মুখে কিছু বলার আগেই মনের কথা মা টের পেয়ে যান। অসুস্থ হলে মা সারারাত জেগে থাকেন। এমন নিঃস্বার্থ ত্যাগ এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা মা ছাড়া আর কে দিতে পারেন?

 

 

 

ধর্মে মায়ের মর্যাদা

 

 

 

মায়ের প্রতি সদাচরণের নির্দেশ পবিত্র কুরআন ও হাদিসে সুস্পষ্টভাবে রয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে এবং তাঁদের প্রতি বিরক্তিসূচক একটি শব্দও উচ্চারণ না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে বর্ণিত আছে এক সাহাবি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে জিজ্ঞেস করলেন সবচেয়ে বেশি সদাচরণ পাওয়ার অধিকারী কে? তিনি পরপর তিনবার বললেন তোমার মা তারপর বললেন তোমার বাবা। (সহিহ বুখারি ও মুসলিম) সুতরাং ইসলামে মায়ের মর্যাদা সর্বোচ্চ। আমাদের উচিত তাঁর প্রতিটি ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং কখনো তাঁর হৃদয় না ভাঙা।

 

 

 

মায়ের প্রতি অবহেলা না হোক

 

 

মা সন্তানকে ভালোবাসেন নিঃশর্তভাবে আগলে রাখেন নিরলসভাবে নিজের সুখ বিসর্জন দেন নির্দ্বিধায়। তবুও কিছু সন্তান মাকে ভুলে যায়। দিনশেষে সেই মায়ের ঠাঁই হয় বৃদ্ধাশ্রমের কোনো ছোট্ট ঘরে রাস্তার গাছতলায় কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে উদ্বাস্তু হয়ে। এই পরিণতি কোনো মায়েরই প্রাপ্য নয়। সমাজের এই নির্মম বাস্তবতা আমাদের সকলকে ভাবিয়ে তোলে। যে মা সারাজীবন সন্তানের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন সেই মাকে অবহেলায় ঠেলে দেওয়া মানবতার সবচেয়ে বড় পরাজয়। মা অনন্য, অতুলনীয় কখনো বন্ধু, কখনো শিক্ষক, কখনো পথপ্রদর্শক, কখনো যোদ্ধা। সব ভূমিকায় তিনি সন্তানের পাশে থাকেন। তবে সময়ের স্রোতে তিনিও একদিন সন্তানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন সেদিন সন্তানের দায়িত্বটাই হয় সবচেয়ে বড়।

 

 

 

প্রতিটি দিনই মা দিবস

 

 

 

আজ বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর সব মাকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। মায়ের ঋণ কখনো পুরোপুরি শোধ হওয়ার নয়। পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মা-ই আমাদের সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ আশ্রয়। মাকে নিয়ে অনেক কথা বলা যায় কিন্তু তাঁকে পরিপূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করতে পৃথিবীর সব শব্দও অপ্রতুল। দিনশেষে মায়ের সঙ্গে হাসার মুহূর্তটুকুই জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অনুভূতি।

এ বছরের মা দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞা করি কোনো মা যেন বৃদ্ধাশ্রমে না থাকেন। শুধু বছরের একটি দিন মা দিবস পালন করলেই চলবে না সারাজীবন মাকে কাছে রাখতে হবে ভালোবাসতে হবে এবং সম্মান করতে হবে। আমার কাছে প্রতিটি দিনই মায়ের দিন। তাই আমাদের সবার উচিত সারাজীবন মাকে সম্মান করা এবং তাঁর যত্ন নেওয়া। মা ও সন্তানের ভালোবাসার বন্ধন চিরকাল অটুট থাকুক পৃথিবীর প্রতিটি মা সুখে থাকুক, ভালো থাকুক।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

নাম: মোঃ মাজহারুল ইসলাম

শিক্ষার্থী: আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ

সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া

লেখক: সাধারণ সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!