বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

১৪ আগস্ট: এক হারানোর স্মৃতি

Author

মোঃ সিফাতুল্লাহ তাসনীম , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ পাঠ: ২২২ বার

রক্তীয় সম্পর্কের বাইরে পৃথিবীতে যে কয়জন মানুষকে মন থেকে ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি, তাঁদের একজন পিরোজপুরের মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। তাঁর কিছু ফাতওয়া কিংবা কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা থাকতেই পারে এবং সে সকল সমালোচনাসহ-ই আমি মাওলানাকে এক্সেপ্ট করি; আমি তাঁকে ভালোবাসি। কারণ, মানুষ হিসেবে আমরা কেউই ভুলের উর্ধ্বে নয়। তবে তাঁর ওপর যে সকল জ’ঘন্য অপবাদ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে এবং নির্ম’মভাবে কারাগারের প্রকোষ্ঠে তাঁর জীবনীশক্তি শেষ করে দেয়া হয়েছে ও অবশেষে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসার নামে শহীদ করা হয়েছে আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে সাধারণ মানুষের মাঝে কুরআনের মেসেজকে খুব সুন্দর ও বলিষ্ঠভাবে পৌঁছে দিয়েছিলেন। শত বাধা-বিপত্তি, জুলুম-নির্যাতন সত্ত্বেও তিনি দৃপ্তকণ্ঠ বলেছিলেন, “আমার এই কণ্ঠ সোচ্চার থাকবে যতদিন আমি বেঁচে আছি।” বাংলাদেশের এই যমীনে যে কয়েকজন মনীষী জীবন দিয়ে হলেও আল্লাহর শাশ্বত বাণী কোরআনের খিদমাত করে গিয়েছেন, তাঁদের মাঝে আল্লামা সাঈদী অন্যতম অগ্রপথিক। শিক্ষিত-অশিক্ষিত সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি কোরআনের বার্তাকে পৌঁছে দিতেন সুমিষ্টকণ্ঠ আর যুক্তি সহকারে। তাই তো সারা বাংলার মানুষ তাঁকে হৃদয়ের গহীনে ‘কোরআনের পাখি’ হিসেবেই স্বীকৃতি দিয়েছে।

সাঈদীর কিছু ভবিষ্যত-বাণী, কিছু উক্তি আজও যেন শতভাগ জীবন্ত। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কথা বলতেন, কথা বলতেন ছাত্র সমাজের কল্যাণ ও রাষ্ট্রের রূপরেখা নিয়ে, ভাবতেন দেশের তরুণ ও নারী সমাজ নিয়ে। প্রায় ৫০টি দেশ ঘুরে আল্লাহর এই বান্দা সমৃদ্ধ করেছিলেন তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলি।

ফ্যা/সিস্ট হাসিনা ও কিছু উগ্র*বাদী সংগঠন আল্লামা সাঈদীর কণ্ঠ রোধ করতে না পেরে তাকে জীবনে হ’ত্যার পরিকল্পনা করে। মানবতাবিরোধী অ’পরাধ, ধ’র্ষ’ণের মতো অ’পবাদ চাপিয়ে দেওয়া হয় তাঁর ওপর। তবু আল্লামা শক্ত ছিলেন, হাসি’নার কা’রাপ্রকোষ্ঠে থেকেও তিনি বই লিখে গিয়েছেন, মানুষকে সুমহান সৃষ্টিকর্তার দিকে আহ্বান জানিয়ে গেছেন। তিনি আদালতে উপস্থিত হয়েছেন, অথচ কখনো কখনো দেখা যেত- তাঁর বুকে আগলে রেখেছেন শাশ্বত কুরআনের মাসহাফকে। তিনি আল্লাহর কুরআনকে ভালোবেসেছিলেন জীবন দিয়ে, আমিও তাই তাঁকে ভালোবাসি মন থেকে।

আল্লামা সাঈদীর কণ্ঠ রোধ করার জন্য বিভিন্ন সময় তাঁর তাফসীর মাহফিল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাঁর একাধিক মাহফিলে তাঁকে উদ্দেশ্য করে গু’লি পর্যন্ত চালানো হয়েছে। ফ্যাসি’স্ট হাসিনার আমলে আল্লামার ওয়াজের ক্যাসেট বাজানোর জন্যও মানুষকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে। তাঁর মিশন আর ভিশনকে থামাতে কী না করেছে ফ্যাসি’স্ট সরকার! তবু তিনি ছুটে চলেছেন আলোর মশাল হয়ে। হু’মকি, মা’মলা, অ’পবাদ, কারাগার, নি’র্যাতন–কোনো উপায়ে তাঁর মিশন থেকে তাঁকে পিছপা করতে না পেরে খু’নি হাসিনা বেছে নেয় চূড়ান্ত সীমাল’ঙ্ঘনকারী সিদ্ধান্ত। সে আল্লামাকে প্রাণে শেষ করে দেবার ফন্দি আঁটে।

২০২৩ এর ১৩ ই আগস্ট। অসুস্থ আল্লামাকে কারাগার থেকে চিকিৎসার নামে ঢাকার পিজি হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসার নাম করে বরং মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয় আমাদের প্রাণপ্রিয় আল্লামাকে। যেই মানুষটি হাসিমুখে অ্যাম্বুলেন্স থেকে শাহবাগের যমীনে নেমেছিলেন, ঠিক একদিন বাদেই ১৪ আগস্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃ’ত নিথর দেহ স্বজনকে ফেরত দেয়! ইনশাআল্লাহ, আল্লাহর ফায়সালায় মাওলানা সাঈদী শাহাদাতের কাতারে নাম লিখিয়েছেন বলেই আশা করি।

পরিশেষে, সাঈদী আজও আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর। তাঁর কর্ম, তাঁর কথা আজও বাতিলের বিরুদ্ধে লড়তে আমাদের উৎসাহ জোগায়। চব্বিশের শহীদ আবু সাইদ, ওয়াসিমরাও আল্লামার ভক্ত ছিলেন। মহান আল্লাহ সাঈদীকে তাঁর কর্মপ্রচেষ্টার উত্তম প্রতিদান দিন। আজ আল্লামা সাঈদীকে হ’ত্যার পরিকল্পনাকারী ফ্যা’সিস্ট হাসিনাসহ সেই চিকিৎসকও পালিয়ে গেছে দেশ ছেড়ে। সাঈদী হ’ত্যার বিচার আজও আমরা পাই নি; তবে হাসিনার পতন হয়েছে, আর সাঈদী রয়ে গেছেন বাংলার প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে!

লেখক: কার্যনির্বাহী সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।