জলবায়ু পরিবর্তন ও বজ্রপাত সৃষ্টি।

NASA এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার মতে, বিশ্বজুড়ে বজ্রপাতপ্রবণ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ওপরের দিকেই। গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে বজ্রপাতের ঝুঁকি প্রায় ১২ শতাংশ বেড়ে যায়। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে এই দুর্যোগ এখন এক ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সরকারি তথ্যমতে, ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর গড়ে ২০০-এর বেশি মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারাচ্ছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান— একদিকে হিমালয় পর্বতমালা এবং অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর— এই অঞ্চলকে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় পরিণত করেছে। অতীতে গ্রামীণ জনপদে প্রচুর তাল ও বটগাছ ছিল, যা বজ্রপাতকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে মানুষকে সুরক্ষা দিত। কিন্তু, বন উজাড় এবং উঁচু গাছপালা কমে যাওয়ার ফলে বর্তমানে খোলা মাঠে থাকা কৃষক ও সাধারণ মানুষ সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে এপ্রিল থেকে জুন মাসে হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রপাতের তীব্রতা সর্বাধিক থাকে।
এই সংকট মোকাবিলায় কেবল গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক পূর্বাভাস ও সতর্কতা ব্যবস্থা। প্রতিটি গ্রামে বজ্রপাত শনাক্তকরণ যন্ত্র (Lightning Detection Sensor) স্থাপন এবং সাধারণ মানুষকে আবহাওয়া-সম্পর্কিত অ্যাপ ব্যবহারে প্রশিক্ষিত করা জরুরি। বজ্রপাত শুরু হলে দৌড়াদৌড়ি না করে নিচু হয়ে বসা বা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে বজ্রপাত মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
লেখক :-
সোমনা আক্তার
শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ।
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ।
ই-মেইল :-sumonaakter472192@gmail.com
লেখক: সাধারণ সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

