বুধবার, ৬ মে ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / ইসলাম / নিবন্ধ

শাপলা গণহত্যা: নবিপ্রেমে আত্মদানের অমর ইতিহাস

Author

ইমরান নাজির , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ৫ মে ২০২৬ পাঠ: ১৪ বার

২০১৩ সাল। পীর-মাশায়েখদের পুণ্যভূমি বাংলায় আচমকা ইসলামবিদ্বেষী শাতিমে রাসূল ব্লগারদের উৎপাত বেড়ে গেল ভার্চুয়াল জগতে। স্বাধীনতা ও উন্মুক্ত লেখনীর দোহাই দিয়ে পঙ্কিল শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করে একের পর এক ইসলাম, কুরআন-হাদীস এবং মুমিনের প্রাণাধিক প্রিয়, মানবতার বন্ধু রাসূল (সা.)-এর সম্ভ্রমে আঘাত হানতে লাগল। যাঁর সম্ভ্রমে কেউ আঘাত হানলে কোনো মুমিন স্বাভাবিক থাকতে পারে না। ‘শহীদনামা’ বইয়ের তথ্যমতে, নাস্তিকরা তাদের ব্লগে, “রাসূল (সা.)-কে ‘মোহাম্মাদ (মহা-আহম্মক)’ বলে এবং তার খতমে নবুওয়াতের মোহরকে খাদিজা রাযি. এর জুতার আঘাতের চিহ্ন বলে চরম ধৃষ্টতার পরিচয় দেয়। তারা কুরআনের আয়াতকে যথেচ্ছা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে এবং কুরআনকে বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানায়। হাদিসকে ‘হা-হা হাদিস’ বলে উপহাস করে। রাসূল (সা.)-এর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জঘন্য কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা লেখে।

ব্লগের এসব নাস্তিকদের মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত আসিফ মহিউদ্দিন বলে, ঢাকা শহরের সব মসজিদকে পাবলিক টয়লেট বানানো উচিত (নাউযুবিল্লাহ)। সে সিজদা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে লেখে- ‘মোহাম্মদ তার ইয়াদোস্তদের লইয়া প্রায়শই কাবাপ্রাঙ্গণে আরবি (মদ) খাইয়া পড়িয়া থাকিত (নাউযুবিল্লাহ)।’ প্রথম আলো পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক আনিসুল হক ‘ছহি রাজাকারনামা’ শিরোনামে তার একটি ব্যঙ্গাত্মক রচনায় পবিত্র কুরআনের কয়েকটি আয়াতের বিদ্রূপাত্মক তরজমা করে। বইটিতে পর্দানশীল নারী ও দাড়ি-টুপি ধারী আলেমদের নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র আঁকে শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য।

ইসলাম বিদ্বেষী ব্লগগুলো হচ্ছে সামহোয়্যার ইন ব্লগ, আমার ব্লগ, মুক্তমনা ব্লগ, নাগরিক ব্লগ, ধর্মকারী ব্লগ, নকশা ব্লগ, সচলায়তন ব্লগ, চতরাপাতা ব্লগ, মতিকণ্ঠ ব্লগ ইত্যাদি। এ ব্লগসাইটগুলোর অধিকাংশই পরিকল্পিতভাবে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি। সামহোয়্যার ইন ব্লগসহ অন্যান্য ব্লগের মূল কাজই ছিল ইসলাম সম্পর্কে বিদ্বেষ ছড়ানো। সব ব্লগারদের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ছিল আসিফ মহিউদ্দিন। ধারণা করা হয়, কুখ্যাত নাস্তিক আসিফ মহিউদ্দীনের ইসলামবিদ্বেষী কর্মকাণ্ডকে বাংলাদেশের প্রথম সামাজিক ব্লগ সামহোয়্যার ইন ব্লগের মালিক দম্পতি সব সময়ই ইন্ধন জুগিয়েছে। ইহুদি অর্থায়নে পরিচালিত জার্মান সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলের ২০১২ সালের আন্তর্জাতিক ব্লগ প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ ব্লগারের পুরস্কার পায় বাংলাদেশের কুখ্যাত নাস্তিক আসিফ মহিউদ্দিন। অপর একটি ব্লগ ‘আমার ব্লগ’-এর মালিক হলো সুশান্ত দাশ গুপ্ত। ইসলামের বিরুদ্ধে ইচ্ছামতো অশ্লীল লেখা প্রকাশ করে এই ব্লগটি। এ ব্লগেই মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করা হয়।” (তথ্যসূত্র– বই: হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন ও শাপলা চত্বরে শাহাদাতবরণকারীদের স্মৃতিস্মারক ‘শহীদনামা’, পৃষ্ঠা নম্বর: ০৫)

একজন মুমিনের কাছে আল্লাহর রাসূল মানবতার নবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-ই হলেন জগতের যাবতীয় সবকিছু, এমনকি তার সন্তানসন্ততি ও নিজের জীবনের চেয়েও প্রিয়। যেজন্য, জমিনের কোনো অভিশপ্ত কীট রাসূলের সুউচ্চ সম্মানে আঘাত হানলে মুমিনের প্রাণ কাঁদে অঝোরধারায়। নিঃশর্তে জীবন বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত হয়ে ওঠে নবিজীর ইজ্জত রক্ষায়।

মাসটা ছিল মে মাস। সনটা ছিল ২০১৩। বাংলায় অভিশপ্ত শাতিমে রাসূল ব্লগারদের আচমকা উৎপাত দেখে নবিপ্রেমী জনগণ নিশ্চুপ হয়ে ঘরে বসে থাকতে পারলেন না। ঈমানের দাবিতে জেগে ওঠলেন নবিজীর ইজ্জত রক্ষার গুরুদায়িত্ব নিয়ে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এদেশের আলেমকুল শিরোমণি শায়খুল হাদীস আল্লামা আহমদ শফী (রহ.) ডাক দিলেন এক মহাসমাবেশের। সমাবেশের তারিখ ছিল পাঁচ-এ মে। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের নবিপ্রেমী জনতা রাজধানী ঢাকার দিকে ছুটে আসতে থাকে পিপীলিকার মতো। এসে জড়ো হয় সহস্র নবিপ্রেমী শহিদের খুনমাখা শাপলা চত্বরে। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের রাষ্ট্রের কাছে কুরআন, হাদীস, ইসলাম এবং রাসূল (সা.)-কে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলাম তথা নবিপ্রেমী জনতা তেরোটি দফা বা দাবি পেশ করল। ‘শহীদনামা’ বইয়ের ভাষ্যমতে সে দাবি বা দফাগুলো হলো–

০১. আল্লাহ ও রাসূল (সা.)-কে কটূক্তিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান করে সংসদে আইন পাশ করতে হবে।

০২. আল্লাহ ও রাসূল (সা.)-এর অবমাননাকারী নাস্তিক ব্লগারদের গ্রেফতার ও শাস্তি দিতে হবে।

০৩. ইসলাম বিরোধী সকল অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে; সকল ইসলাম বিরোধী বই নিষিদ্ধ করতে হবে।

০৪. কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করে তাদের সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করতে হবে।

০৫. মুসলিম নারীদের পর্দাশীলতা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার পরিবেশ, অপসংস্কৃতি ও পশ্চিমা নগ্নতা বন্ধ করতে হবে।

০৬. ইসলামবিরোধী এনজিওগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।

০৭. সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ইসলামি শিক্ষা চালু করতে হবে।

০৮. ইসলামবিরোধী পাঠ্যবই সংশোধন করতে হবে।

০৯. সব ইসলামি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে বাধা প্রদান বন্ধ করতে হবে।

১০. মসজিদ-মাদরাসার ওপর নজরদারি ও দমনমূলক পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

১১. ইসলামি মূল্যবোধের পরিপন্থী নারীনীতি বাতিল করতে হবে।

১২. ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মহীনতা সংবিধান থেকে অপসারণ করতে হবে।

১৩. ইসলামি অনুশাসন অনুযায়ী দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। (তথ্যসূত্র– বই: হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন ও শাপলা চত্বরে শাহাদাতবরণকারীদের স্মৃতিস্মারক ‘শহীদনামা’, পৃষ্ঠা নম্বর: ০৭)

হাতে তসবিহ, পরনে পাঞ্জাবি আর মাথায় পাগড়ি বাঁধা লক্ষ লক্ষ মানুষ শাপলা চত্বরে দিনভর এই দাবিগুলো জানিয়ে গেল রাষ্ট্রের কর্ণধারদের কাছে। কিন্তু স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও ভোটচোর খুনি হাসিনা সরকার ইসলাম ও নবিজীর সম্ভ্রম বাঁচানোর দাবিগুলো তার কর্ণকুহরে নিলো না মোটেও। বরঞ্চ দিন শেষে যখন রাত গড়িয়ে আসে তখন তার নির্দেশে নবিপ্রেমী জনতার ওপর নেমে আসে এক অমানুষিক অত্যাচার। রাজধানী শাপলা চত্বরের বিদ্যুৎ ব্ল্যাকআউট করে দিয়ে রাতের আঁধারে তাদের ওপর লেলিয়ে দেয়া হয় রাষ্ট্রের নিবন্ধিত খুনি বাহিনীদেরকে। ফলে, নবিপ্রেমী জনতার ওপর চালায় ওরা এক বিভীষিকাময় নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’।

২০১৩ সালের ১২ই মে প্রকাশিত দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ৬ই কলামে লিড খবরের শিরোনামে বলা হয় যে, এতে তারা ব্যবহার করে “দেড় লক্ষাধিক গুলিবারুদ, হেফাজত দমনে সরাসরি অংশ নেয় ৭ হাজার ৫৮৫ সদস্য। এতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর বরাত দিয়ে বলা হয়, ৫ই মে ওই অপারেশনে ১ লাখ ৫৫ হাজার গুলিবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে। এটা ৫ই মে সকাল থেকে রাতে শাপলা চত্বরের অভিযান পর্যন্ত সময়ের গুলিবারুদ ব্যবহারের হিসাব। ৬ই মে ঢাকার প্রবেশপথ কাঁচপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ ও সানারপাড় এলাকা থেকে হেফাজত কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে মাত্র দুই ঘণ্টায় আরও প্রায় ১০ হাজার গুলিবারুদ ব্যবহার করা হয়েছিল, তার হিসাব আসেনি এ খবরে। যদিও ৬ই মে চ্যানেল ২৪, ইন্ডিপেনডেন্ট ও ইটিভির খবরে এ হিসাব দেওয়া হয়েছিল। একইদিনে হাটহাজারী ও বাগেরহাটে হেফাজত কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ব্যবহার হওয়া এবং দেশের অন্যান্য স্থানে হেফাজতকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যবহৃত গোলাবারুদের সংখ্যা যোগ করলে সেটা ২ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে যুগান্তর জানায়, ৫ই মে দুপুর থেকে পরদিন ৬ই মে ভোর পর্যন্ত ৮০ হাজার টিয়ারশেল, ৬০ হাজার রাবার বুলেট, ১৫ হাজার শর্টগানের গুলি এবং ১৫ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। এর বাইরে পিস্তল-রিভলবারের গুলি ব্যবহার হয়েছে সাড়ে ৩শ রাউন্ড।” (তথ্যসূত্র– দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা, ১২-ই মে, ২০১৩ এবং হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন ও শাপলা চত্বরে শাহাদাতবরণকারীদের স্মৃতিস্মারক ‘শহীদনামা’ বই, পৃষ্ঠা নম্বর: ১০)

এসব মারণাস্ত্র ব্যবহার করে তারা কেড়ে নেয় অজস্র নবিপ্রেমী জনতার তাজা প্রাণ। পঙ্গুত্ব বরণ করে অসংখ্য আশেকে রাসূল। এক রাতেই শূন্য হয়ে যায় সহস্র মায়ের কোল। নাড়িছেঁড়া ধন হারিয়ে মায়েরা হন পাগলপারা। চিরদিনের জন্য এতিম হয়ে গেল অগণিত অবলা নিষ্পাপ শিশু। হাজারো নারী তার প্রিয় স্বামী হারিয়ে হয়ে গেল বিধবা। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় আজো তাদের অশ্রু সিক্ত হয়ে যায়। শোকাতুর হয়ে পড়ে রয় জায়নামাজে মহান রবের দরবারে। নালিশ এবং ফরিয়াদ জানাতে থাকে বিচারদিবসের মহান মালিকের কাছে।

স্বাধীনতার পর থেকে যখনই এদেশে নাস্তিক্যবাদ এবং নবিজীর শান নিয়ে গুটিকয়েক কটূক্তিকারী কীট মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে তখনই এদেশের লক্ষ লক্ষ নবিপ্রেমিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান তার প্রতিবাদে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। যার ফলশ্রুতিতে, তাদেরকে নবিপ্রেমে অনুরক্ত হয়ে কখনো ঢেলে দিতে হয়েছে বুকের তাজা রক্ত, কখনো বা করতে হয়েছে পঙ্গুত্ব বরণ, আবার কখনো বা বিলাতে হয়েছে অকাতরে নিজের জীবন। এভাবে ইসলামের ঝাণ্ডা এবং রাসূল (সা.)-এর সুউচ্চ সম্মান বজায় রাখতে যুগে যুগে অসংখ্য ধর্মপ্রাণ নবিপ্রেমিকরা তাদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে ইসলামের সোনালি ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ২০১৩ সালের ৫-এ মে শাপলা চত্বরের গণহত্যায় অনেক নবিপ্রেমিক শাহাদাত বরণ করলেও আজ পর্যন্ত তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে সক্ষম হয়নি এদেশের আলেমসমাজ। যা তাদের বড় ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। তবে এ নিয়ে সম্প্রতি কাজ করে যাচ্ছে ‘শাপলা স্মৃতি সংসদ’। তারা শাপলা চত্বরে শাহাদাতবরণকারী একষট্টি জন শহিদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। কিন্তু যেখানে অগণিত নবিপ্রেমিক নিহত হয়েছেন সেখানে মাত্র একষট্টি জনের তালিকা প্রকাশ নিতান্তই অপ্রতুল মনে হয়েছে আমার কাছে। (তালিকা দেখার জন্য দ্রষ্টব্য: ‘শহীদনামা’ বইয়ের ৮১ নম্বর পৃষ্ঠা)

অপরদিকে, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম একটা মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও, অগণিত মসজিদ, মক্তব এবং মাদরাসায় পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ও আউলিয়ায়ে কেরামের চরণার্পণে ধন্য হয়ে উর্বরিত হওয়া সত্ত্বেও, এদেশে গুটিকয়েক নাস্তিক ব্লগার প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষিতা লালন এবং রাসূল (সা.)-কে গালি দেয়ার মতো দুঃসাহস পায়! আর নবিপ্রেমিক জনগণ তার প্রতিবাদ করতে গেলে গুলির মুখে জীবন বিলিয়ে দিয়ে আসা লাগে! রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক তাদের জীবন ছিনিয়ে নেয়া হয়! তাদের ওপর চালানো হয় অত্যাচারের স্টিমরোলার। বুলেটের আঘাতে ঝাঁঝরা করে দেয়া হয় তাদের প্রশস্ত বুক। রক্তে রঞ্জিত করে দেয়া হয় পবিত্র জমিন। যার প্রমাণ হিসেবে, ‘শাপলা স্মৃতি সংসদের’ নিকট এখনো পর্যন্ত ৮৬ জন শহীদ ও ২২ জন আহতের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। যেমন–

২০১৩ সালে ০৫ ও ০৬ই মে শাপলা চত্বরে শাহাদাতবরণকারী ৬১ জন ও আহত ১৭ জন।

২০১৩ সালে ০৫ মে’র আগে হেফাজতের আন্দোলনে শাহাদাতবরণকারী ৬ জন।

২০২১ সালে মোদি বিরোধী আন্দোলনে শাহাদাত বরণকারী ১৯ জন ও আহত ০৪ জন।

২০০১ সালে ফতোয়া বিরোধী আন্দোলনে আহত ০২ জন। (তথ্যসূত্র– বই: হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন ও শাপলা চত্বরে শাহাদাতবরণকারীদের স্মৃতিস্মারক ‘শহীদনামা’, পৃষ্ঠা নম্বর: ৮৩)

একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের জনগণ ইসলাম এবং নবিজী (সা.)-এর সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে আহত-নিহত হওয়া এবং তার দীর্ঘ একটা সংখ্যা দাঁড়িয়ে যাওয়া বড়ই বেদনাবিধুর এবং দুঃখজনক ব্যাপার। যে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ মুসলমান। আজানের পবিত্র সুর শুনে যাদের ঘুম ভাঙে। যাদের কচিকাঁচা শিশু-কিশোররা ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠে প্রথমে পবিত্র কুরআন বুকে নিয়ে মক্তবে যায়। রাসূলের নাম শুনামাত্রই যে দেশের মানুষরা মনের আনন্দে দরূদ পাঠে মশগুল হয়ে পড়ে, সে দেশে প্রিয় নবিজীর ইজ্জত রক্ষার জন্য তাওহিদি জনতাকে জীবন দিতে হয় বারবার! একটা জাতির জন্য এরচেয়ে বড় দুঃখজনক কোনো বিষয় আছে কিনা আমার জানা নেই। যে চিত্র ও যে দৃশ্য অদূরভবিষ্যতে এ জাতির জন্য একটা অশনিসংকেত।

তাই, এই মুহূর্তে প্রয়োজন ইসলাম এবং রাসূল (সা.)-কে নিয়ে যারা কটূক্তি, ব্যঙ্গ অথবা তাঁর ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে সেসব অভিশপ্ত কীটদেরকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে মুমিনের কলিজা শীতল করা। ইসলাম এবং প্রিয় নবিজীর সম্ভ্রম রক্ষার বৃহৎ স্বার্থে রাষ্ট্রকে এই গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিতে হবে। না হয় প্রতিবাদে নবিপ্রেমী মুসলিমদের গণজোয়ার থামাতে পারবে না রাষ্ট্রের কোনো বাহিনী। শাপলায় শাহাদাতবরণকারীদের অমর আত্মত্যাগে উজ্জীবিত হয়ে তারা বারবার শাতিমে রাসূলদের বিচারের দাবিতে শাপলা চত্বরে যাবে। যদিও তাদেরকে আবার রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে দেহের রক্ত ঝরানো কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ অথবা অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিতে হয়। এতে তারা বিন্দুমাত্রও পরোয়া করবে না। যেকোনো মূল্যে প্রিয় নবিজীর ইজ্জত রক্ষায় এদেশের নবিপ্রেমী জনতা সদা প্রস্তুত রবে।

 

 

 

লেখক: সম্পাদকীয় পর্ষদ সদস্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!