জুমুআর বয়ান হোক বিষয়ভিত্তিক
কুরআনুল কারীমের মধ্যে মানবজীবনের বিভিন্ন বিধিবিধান সংবলিত পাঁচশত আয়াত রয়েছে। চাইলে খতীব সাহেবরা এগুলো থেকে এক জুমুআয় একটা আয়াতের তাফসীর করতে পারেন। এতে করে সাধারণ মুসল্লীরাও দ্বীন সম্পর্কে কিছু শিখতে এবং জানতে পারবে। কিন্তু তারা এসব বিষয় নিয়ে মোটেও আলোচনা করছেন না। কেন করছেন না সেটা নিয়ে ভাবা এখন সময়ের দাবি।
আমার মনে হচ্ছে, সময়ের অভাবে হোক কিংবা গাফিলতির কারণে হোক, নিয়মিত তাদের কুরআন-হাদীস অধ্যয়ন করা হয় না বিধায়, তারা জুমুআর বয়ানের মধ্যে এই ডাল থেকে এককথা ঐ ডাল থেকে দুই কথা বলে আলোচনা শেষ করে দেন। বিষয়ভিত্তিক আলোচনা পেশ করতে ব্যর্থ হন। আর জুমুআতে আলোচ্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করার পূর্বে যদি ঐ বিষয়ের ওপর মোতালাআ তথা অধ্যয়ন করে না আসা হয়, তাহলে তো তিনি মুসল্লীদের সামনে আলোচ্য বিষয়ের ওপর পূর্ণাঙ্গ এবং যথাযথভাবে আলোচনা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হবেন। এটাই স্বাভাবিক। এমনকি মুসল্লীদের সমালোচনা ও অসন্তুষ্টি কুড়াতেও বাধ্য হবেন।
আর সমাজের মানুষদেরকে কুরআন-হাদীস বুঝিয়ে দ্বীনের পথে আনতে হলে জুমুআর দিন মসজিদে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা বা বয়ান পেশ করার কোনো বিকল্প নেই। আর বিষয়ভিত্তিক আলোচনা বা বয়ান করতে হলে অবশ্য খতীব সাহেবদেরও নিয়মিত কুরআন-হাদীস অধ্যয়নের কোনো বিকল্প নেই।
তাই, মসজিদের একজন সাধারণ মুসল্লী হিসেবে জুমুআর দিন মসজিদের খতীব সাহেবদেরকে কুরআন ও হাদীস থেকে তথ্যনির্ভর, বিষয়ভিত্তিক এবং সময়োপযোগী বয়ান করার অনুরোধ জানাই।
লেখক: সম্পাদকীয় পর্ষদ সদস্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।