বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

শুধু মৃত্যুর পরেই, আগে কেন পারিনা?

Author

আখতার হোসেন আজাদ , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০১৯ পাঠ: ১৮ বার

বাংলাদেশ পৃথিবীর অপার সম্ভাবনাময় একটি দেশ। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের পরাধীনতার শিকল থেকে মুক্ত লাভের পর নানা চড়াই উতরায় পার করতে হয়েছে প্রকৃতির লীলাভূমি এই দেশটিকে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, রাজনীতি অনেক সময় আমাদের দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে প্রভাবিত করেছে। জাতীয় রাজনীতিতে সহনশীলতার অভাব, শুধু আমার নীতিই ঠিক আর বাকিরা সবাই বিপথগামী, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, রাজনৈতিক কর্মসূচীর নামে জ্বালাও-পোড়াও, বিরোধী দলকে যেকোনো প্রকারে দমন নীতি আমাদের দেশের স্বাভাবিক যাত্রাকে ুবাঁধাগ্রস্থ করেছে। আমাদের নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে সহনশীলতা ও শ্রদ্ধার রাজনীতি দেখা থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে। এজন্য মেধাবী শিক্ষার্থীরা রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়েছে। ফলে ছাত্ররাজনীতির নেতৃত্ব চলে যাচ্ছে মাদকসেবক, সন্ত্রাসী, বিপথগামীদের হাতে। এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতেও আমরা দক্ষ নেতা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মতিয়া চৌধুরি, রাশেদ খান মেননসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দের সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতি চর্চার মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় ক্রান্তিকালে সফলতার সাথে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে রাজনীতির বহুমাত্রায় প্রচলন শুরু হয় মূলত স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জনগণের সেবা করা যতটা না মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল, তার চেয়েও প্রধান লক্ষ্যই যেন ছিল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া। দেশের রাজনীতি কলুষিত হতে শুরু করে মূলত এই কারণেই। ‘সে ভালো, তুমি ভালো কিন্তু আমি আরও ভালো হতে চাই’, আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কখনও এই নীতিতে চলতে

পারেননি। প্রতিনিয়তই একে অপরের প্রতি বাগযুদ্ধে লিপ্ত থেকেছেন বছরের পর বছর। এর খেসারত দিতে হয়েছে সাধারণ জনগণকে। বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে যে ক্রান্তিকাল অতিবাহিত করেছে তা মূলত রাজনৈতিক দলসমূহের অনৈক্যের কারণে বেশি ভুগতে হয়েছে। ২০০৫ সালে জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারের সময় যখন জেএমবি দেশব্যাপী বোমা হামলা চালিয়েছিল, তখন সকল রাজনৈতিক দল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ না হয়ে একে অপরের প্রতি দোষারোপে লিপ্ত ছিল। আবার সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু সন্ত্রাসীর ঘটনার সময়েও আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ একই কাজ করেছেন। আমাদের দেশে প্রায় প্রচলনই হয়ে গেছে যে রাজনীতি মানেই পরস্পরের প্রতিটি কাজে বিরোধিতা করা। বছরের প্রতিটি দিনই যখন পরস্পর বাগযুদ্ধে লিপ্ত থাকেন আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কিন্তু যখন প্রতিপক্ষ কোনও দলের নেতা মারা যান তখন সকল দল-মত-আদর্শ ভুলে সকলে শোক ও সমবেদনা দিতে আসেন। সম্প্রতি আমরা দেখতে পাই, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ মারা যাবার সময় দেশের সকল রাজনৈতিক দলের নেতারা একত্রিত হয়ে বিভিন্ন প্রশংসামূলক স্মৃতিচারণ করেছেন। আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অসুস্থ থাকার সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। আবার কিছুদিন পূর্বে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী যখন হাসপাতালে ছিলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি তার ফেসবুক ওয়ালে সুস্থতা কামনা করে স্টাটাস দিয়েছিলেন। শুধু কেউ অসুস্থ হলে বা মারা গেলেই কেন নমনীয়তা বা অপরের পাশে দাঁড়ানো, স্থানীয় বা জাতীয় ইস্যুতে কারণে-অকারণে বিরোধিতা না করে তখন কেন আমরা আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যমতে পৌঁছতে পারি না?

লেখক: প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ৫ আগস্ট ২০১৯ তারিখে দৈনিক বাংলাদেশের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।