বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

আমাদের মুদ্রায় স্মৃতিসৌধ

Author

এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ (কুষ্টিয়া-৭০০৩)

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২১ পাঠ: ৪০ বার

এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ
১৯৭২ সালের ৪ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম মুদ্রা জারি করা হয়। প্রথম এ মুদ্রায় স্বাধীনতার প্রতীক হিসাবে জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং বাংলাদেশের মানচিত্র ব্যবহার করা হয়। এরপর থেকে স্বাধীনতার ৪৯ বছরে বাংলাদেশের জাতীয় আকাঙ্ক্ষা, আদর্শ, আন্দোলন- সংগ্রাম, ভাষা, শিল্প- সংস্কৃতি এবং নৈসর্গিক পরিবেশের প্রতি খেয়াল রেখে নানান নকশার মুদ্রা প্রচলন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহীদদের অসামান্য ত্যাগ ও শৌর্যের স্মারক জাতীয় স্মৃতিসৌধ।

মুদ্রায় প্রথম স্মৃতিসৌধ
১৯৭২ সালের বিজয় দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাভারের নবীনগরে জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর কয়েকটি ধাপে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৮২ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। নির্মাণের পাঁচ বছর পরেই ১৯৮৭ সালের ২৪ আগস্ট মুদ্রায় প্রথমবারের মত জাতীয় স্মৃতিসৌধের ছবি দেখা যায়। গভর্ণর নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পঞ্চাশ টাকা মূল্যমানের এ নোটটিতে মূখ্যদিকে স্থান পায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং গৌণদিকে জাতীয় সংসদ ভবনের ছবি।

স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্তি উদযাপিত হয়। দিনটির স্মরণে বাংলাদেশ ব্যাংক দশটাকা মূল্যমানের একটি স্মারক রৌপ্যমুদ্রা প্রকাশ করে। মুদ্রাটির একপাশে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি এবং অপরপাশে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি খোদিত হয়েছে।

তারপর দশবছর লেগে যায়
১৯৮৭ সালে জাতীয় স্মৃতিসৌধের ছবি সম্বলিত পঞ্চাশ টাকার নোট প্রকাশের পর দীর্ঘ দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে আর কোন প্রচলিত মুদ্রায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ দেখা যায়নি। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ২ জুলাই সামনে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং পেছনে সুপ্রিমকোর্ট ভবনের ছবি যুক্ত ৫০০ টাকার নোট বাজারে ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর দু’বছর পর
২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়া থেকে দশ টাকার পলিমার নোট ছাপিয়ে আনা হয়। নোটটির মূখ্যপিঠে ছিলো (বামে) বঙ্গবন্ধু ও (ডানে) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররম এবং গৌণপিঠে পাশ থেকে দেখা জাতীয় স্মৃতিসৌধের আঁকা ছবি, জাতীয় সংসদ ভবন আর ভূ-উপগ্রহের ছবি। কিন্তু নোটটি বাংলাদেশে ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় পরবর্তীতে তা বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়।

একই বছরে কয়েকবার
২০০২ সালের ৭ জানুয়ারি পলিমার নোটটির নকশা থেকে শুধু বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বাদ দিয়ে পুনরায় কাগুজে নোট হিসাবে বাজারে ছাড়া হয়। এই নোটটিতেও পূর্বের নকশা অনুযায়ী গৌণপিঠে পাশ থেকে দেখা জাতীয় স্মৃতিসৌধের আঁকা ছবি স্থান পায়।
এই বছরেই ৫ জুন ১০০ টাকার একটি নোট এবং ১৭ জুলাই ৫০০ টাকার একটি নোট ইস্যু  করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০০ টাকার নোটের সামনে (বামে) স্মৃতিসৌধের আঁকা ছবি এবং (ডানে) ষাট গম্বুজ মসজিদের ছবি স্থান পায়। নোটটির পেছনে রয়েছে বঙ্গবন্ধু সেতুর (তৎকালীন যমুনা সেতু) ছবি।
আর ৫০০ টাকার নোটটির নকশায় রয়েছে একপাশে জাতীয় স্মৃতিসৌধের পাশাপাশি ঢাকার তারা মসজিদের ছবি এবং অপর পাশে সুপ্রিমকোর্টের মূল ভবনের ছবি।
২০০৪ সালের ২৪ অক্টোবর ৫০০ টাকার উপর্যুক্ত নোটের নকশা অপরিবর্তিত রেখে শুধু ‘৫০০’ এর পরিবর্তে ‘পাঁচশত টাকা’ শব্দে Optical variable ink (ovi) ব্যবহার করে পুনরায় বাজারে ছাড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আবারো সাত বছর পর
২০১১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক পরপর বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত কয়েকটি ব্যাংক নোট প্রকাশ করে। যার মধ্যে ২, ৫, ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট ছিলো। এই নোটগুলোর প্রত্যেকটির মূখ্যদিকে মাঝখানে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতির জলছাপ ব্যবহার করা হয়। এরপর ২০১২ সালের ৭ মার্চ ১০, ২০ এবং ৫০ টাকার নোটেও বঙ্গবন্ধুর ছবি যুক্ত করা হয়। পূর্বোক্ত নোট গুলোর মতই এই নোটেরও মূখ্যদিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতির জলছাপ স্থান পায়।

স্মারক মুদ্রায় স্মৃতিসৌধ
বহুদেশে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো স্মরণীয় করে রাখতে স্মারক মুদ্রা প্রচলনের রেওয়াজ রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও নানা সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মরণে স্মারক মুদ্রার প্রচলন করেছে। এসব স্মারক মুদ্রার বেশ কয়েকটিতে লক্ষ্য করা গেছে জাতীয় স্মৃতিসৌধের উপস্থিতি। তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে-
১৯৯১ সালে ২০তম বিজয়দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত একটাকা মূল্যমানের রৌপ্যমুদ্রা। যার একপাশে স্বগৌরবে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিকৃতি খোদাই করা হয়েছে।
এরপর অনেকদিন কোন স্মারক মুদ্রায় জাতীয় স্মৃতিসৌধের উপস্থিতি দেখা যায়নি। ২০১১ সালে বাংলাদেশের বিজয়ের চল্লিশ বৎসর উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক স্মৃতিসৌধের ছবি সম্বলিত চল্লিশ টাকা মূল্যমানের স্মারক নোট প্রকাশ করে। দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারো কোন স্মারক মুদ্রায় জাতীয় স্মৃতিসৌধের উপস্থিতি চোখে পড়ে।
পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ২৬ জানুয়ারি ‘দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন লিঃ’ এর রজতজয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশিত পঁচিশ টাকার নোটে এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণ অভিযাত্রার স্মারক হিসেবে প্রকাশিত সত্তর টাকার নোটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের উপস্থিতি লক্ষণীয়।

লেখক: সভাপতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৭ মার্চ ২০২১ তারিখে দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।