বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

তরুণ মনে বিজয় ভাবনা

Author

এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ (কুষ্টিয়া-৭০০৩)

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২০ পাঠ: ৪২ বার

পৃথিবীর স্বাধীন দেশগুলোতে স্বাধীনতা দিবস থাকলেও স্বাধীনতা দিবসের পাশাপাশি বিজয় দিবস থাকার ঘটনা বিরল। এই বিরল মর্যাদা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এবারে মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫০ তম বিজয় দিবস। অভ্যুদয়ের পর পাঁচ দশক পেরিয়ে এখন কোথায় দাঁড়িয়ে প্রিয় বাংলাদেশ? কোন কোন ক্ষেত্রে এগিয়েছে? আর কোনদিকেই বা  পিছিয়ে আছে? এই প্রশ্নগুলি নিয়েই কথা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া চার তরুণ-তরুণীর সাথে। প্রত্যাশার সাথে প্রাপ্তি মিলছে না অনেকের মতেই। তবুও তারা আশাবাদী। বিজয় দিবস নিয়ে তাদের ভাবনা লিপিবদ্ধ করেছেন- এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ

সাদিয়া আফরিন জুঁই
শিক্ষার্থী, যশোর মেডিকেল কলেজ।

বিজয়ের ৪৯ বছর পেরিয়ে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ও অর্জন অনেক। নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হয়েছি আমরা। পদ্মা সেতুর মত বড় প্রকল্প বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে করতে পারছে।  স্বাধীনতা পরবর্তীকালে মাতৃমৃত্যু হার নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে,   বৃদ্ধি  পেয়েছে মানুষের গড় আয়ু।  টিকাদান তথা প্রতিরোধ মূলক স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ একটি রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে স্বাধীন  বাংলাদেশের পথচলা শুরু হয়েছিলো তার অনেকখানিই এখনো পূরণ হয়নি। দুর্নীতি, শিক্ষাখাতে প্রশ্নফাঁস, বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রিতা, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা থেকে আমরা মুক্তি পাইনি।  স্বাস্থ্যখাতে অপ্রতুল বিনিয়োগ, পর্যাপ্ত জনশক্তি এবং উন্নত সরঞ্জামাদির অভাব আমাদের স্বাস্থ্য খাতকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে দেয়নি। ১৯৭৪ সালের ১৫ই ডিসেম্বর এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আত্মপ্রবঞ্চনার ঊর্ধ্বে উঠে আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের আত্মশুদ্ধির পথে নিয়ে যেতে হবে। আত্মসংযমের পথ বেছে নিতে হবে। এ কথাগুলো ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তবেই আমরা সত্যিকার অর্থে বিজয়ের মর্যাদা দিতে পারবো।

মাহবুবুল ইসলাম আকাশ
শিক্ষার্থী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

বাঙালির জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বেশি গৌরবদীপ্ত ও ঐতিহ্যবাহী দিন বিজয় দিবস। এ দিনটি বাঙালির মুক্তির দিন, স্বৈরাচার দমনের দিন। এই দিন বিশ্ব মানচিত্রে সৃষ্টি হয় নতুন একটি সার্বভৌম দেশ, বাংলাদেশ। যা বাঙালি জাতিকে এনে দেয় আত্মপরিচয়ের ঠিকানা। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কাঙ্ক্ষিত এই স্বাধীনতা অর্জিত হলেও আমাদের সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি, সংগ্রামের কোনো শেষ নেই। দেশ গড়ার সংগ্রামও আমাদের সবার! দেশ নিয়ে আমরা যারা আক্ষেপ করি, এ দেশ ও সরকারকে দোষারোপ করি, সেই আমরাই বা কতটুকুন করেছি দেশের জন্য? সমস্যা থাকবেই। বাস্তব জীবন এবং হলিউডের সিনেমার মধ্যে পার্থক্য অনেক। বাঙালি হিসেবে প্রত্যেকেরই দেশের প্রতি কিছু কর্তব্য রয়েছে। কেবল বিজয় দিবসের একটি দিনই নয়, বরং বিজয়ের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে প্রত্যেক বাঙালির উচিত সারা বছরই দেশ-জাতি, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে কাজ করে যাওয়া।

সাদিয়া জামান
শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

বিজয় দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর সোনার বাংলার সোনার ছেলেদের রক্তে রঞ্জিত লাল গালিচা আর দুই লাখ ৭৬ হাজার মা-বোনের সম্ভ্রমের শামিয়ানায় বরণ করতে হয়েছে মহান বিজয়কে। যার বিনিময়ে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আমরা স্থান পেয়েছি বিশ্ব দরবারে। বিজয়ের এই অর্ধশত বছরে এসে পেছনের দিকে ফিরে তাকালে দেখতে পাই, শিক্ষা, চিকিৎসা, অর্থনীতি সব দিক দিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তাই বলে কাঙ্খিত পর্যায়ে আমরা পৌঁছেছি সেটা নয়। স্বাধীন দেশে আজও মা-বোনদের সম্ভ্রমের  আঁচল ছিঁড়ে দূষিত বাতাসে উড়ে। শিক্ষাকে শাসন করে অশিক্ষা। দেশের প্রতিটা ক্ষেত্রে রয়ে গেছে বৈষম্যতা। দূর্নীতির বিরুদ্ধে এখনো আমরা বিজয় নিশ্চিত করতে পারিনি। এখনো নিশ্চিত হয়নি সামাজিক নিরাপত্তা। যে দেশে গণতন্ত্রের জন্য এত রক্ত ঝরেছে, সেই দেশে আজও জাগ্রত হয়নি গণতান্ত্রিক চেতনা। এখনো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই কাঙ্ক্ষিত বিজয় পেতে।

মীর মোহাম্মদ জাহিদুল হক
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হলেও আমাদের স্বপ্ন-সম্ভাবনা বাস্তবের আঘাতে ছিন্ন-ভিন্ন হয়েছে। ১৯৭৫ এ ঘাতকের বুলেটে সপরিবারে জাতির জনকের মর্মান্তিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তিত হয়। স্বাধীন দেশে গণতন্ত্র হয় নির্বাসিত। প্রায় দেড় দশক জুড়ে আমাদের নতুন করে সংগ্রাম করতে হয়েছে গণতন্ত্রের জন্য। আদর্শিকভাবে স্বাধীনতার মূল চেতনার অনেক কিছুই এখনো অধরা। গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে এখনও পাড়ি দিতে হবে অনেক পথ। জাতীয় জীবনে ঐক্যের বদলে সংঘাত, সুস্থিতির বদলে অস্থিরতা, শান্তির বদলে নৈরাজ্য মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে নতুন করে।

শ্রেয়োবোধ ও শুভবুদ্ধিকে আশ্রয় করে আমরা প্রতিকূল ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলাম। প্রতিটি বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মশাল করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে হতাশা ও নিরাশ্বাস ঠেলে, প্রত্যয়ে ও সাহসে বুক বেঁধে। তবেই আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন মহান বিজয় আমাদের জীবনে অর্থবহ হয়ে উঠবে।

 

লেখক: সভাপতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৩ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক, ডেল্টা টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।