শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস কেন?
শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। একটি জাতিকে উন্নতির শিখরে আরোহণ করতে হলে অবশ্যই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে এবং এর কোন বিকল্প নেই। কেবল শিক্ষায় পারে উন্নয়নের বীজ বপন করতে। পন্ডিত নেহেরু বলেছেন, দেশ ভালো হয় যদি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভালো হয়। কিন্তু এটি দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতে ক্রমেই সন্ত্রাস ও মাত্রাতিরিক্ত রাজনীতি যুক্ত হয়ে রীতিমত এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্ররাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মারামারি, হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, অভ্যন্তরীন কোন্দল লেগেই থাকে প্রায় সারাটি বছর। যার দরুণ বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা আসে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এবং কুফল ভোগ করতে হয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের। সেশনজট নামক শব্দটি যেন পিছু ছাড়েনা আমাদের মতো সাধারণ ছাত্রদের। ফলে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে আমাদের জীবন এগিয়ে যাচ্ছে। ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা লাভ পর্যন্ত ছাত্ররাজনীতির অবদান অতুলনীয়। কিন্তু আমাদের বর্তমান ছাত্ররাজনীতি অতীতের গৌরবময় ঐতিহ্যকে ভুলে গিয়ে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে একে কলঙ্কিত করেছে। আমাদের পিতামাতা অনেক কষ্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান যেন আমরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আদর্শ মানুষ হয়ে গড়ে উঠে দেশের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে অস্থির লাগামহীন ছাত্ররাজনীতির কবলে পড়ে সন্তানকে লাশ হয়ে ঘরে ফিরতে হয়। কে জবাব দিবে ঐ পিতামাতাকে? কে দায় নিবে এই হত্যাকান্ডের?
এমন অস্থির-অবস্থা যদি আমাদের ক্যাম্পাসগুলোতে চলতেই থাকে তাহলে দেশ এগিয়ে যাবে এক অন্ধকার পথে। প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হয়ে আর একটিও যেন তাজা প্রাণ ঝরে মায়ের বুক ফাটা আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী না হয়ে উঠে এই কামনা করছি এবং এর জন্য প্রশাসন, সরকারকে অগ্রগনী ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা ও সন্ত্রাসের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
