সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহম্মদ সজীব প্রধানের বহিষ্কার সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি
সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহম্মদ সজীব প্রধানের নৈতিক স্খলন, শপথ ভঙ্গ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও গোপনীয়তা লঙ্ঘন, সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা এবং ধারাবাহিক অসাংগঠনিক কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত জরুরি বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহম্মদ সজীব প্রধান (২০২৫-২৬ কার্যবর্ষ)-এর দায়িত্ব পালনকালীন ও পরবর্তী সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, অভিযোগ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তার ভূমিকা নিয়ে উপদেষ্টা পর্ষদ, স্থায়ী পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের পর্যবেক্ষণ এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ প্রতীয়মান হয়েছে:
১। তার বিরুদ্ধে দুইজন নারী সদস্যের পক্ষ থেকে নারী লাঞ্ছনা এবং সভাপতির পদমর্যাদার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগ উত্থাপিত হয়। এ বিষয়ে উপদেষ্টা পর্ষদ কর্তৃক তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ের অতিবাহিত হওয়ার পরেও কোনো জবাব প্রদান করেননি।
২। পরবর্তীতে তিনি স্বাক্ষরবিহীন একটি পদত্যাগপত্র প্রদান করেন। উক্ত পদত্যাগপত্রটি ছিল একটি অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয় সাংগঠনিক বিষয়। কিন্তু তিনি সংগঠনের অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তা বিভিন্ন মেসেঞ্জার গ্রুপে প্রচার করেন, যা সাংগঠনিক শিষ্টাচার ও গোপনীয়তার পরিপন্থী।
৩। তার ত্রুটিপূর্ণ পদত্যাগপত্র উপদেষ্টা পর্ষদ কর্তৃক গ্রহণ না করে তাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হলেও তিনি উক্ত সিদ্ধান্তও বিভিন্ন মেসেঞ্জার গ্রুপে প্রচার করেন। এর মাধ্যমে তিনি পুনরায় সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত ও গোপনীয়তা রক্ষার সাংগঠনিক নীতি লঙ্ঘন করেন।
৪। সংগঠনের স্থায়ী পর্ষদ ও কেন্দ্রীয় পর্ষদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি, বিভাজন ও পারস্পরিক দূরত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকার বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ পাওয়া যায়, যা সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর।
৫। বিভিন্ন নারী সদস্যের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হলে তিনি অনেক ক্ষেত্রে বিষয়গুলো মনে নেই বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার বক্তব্য ও আচরণও সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হয়নি।
৬। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর উদ্ভূত বিভিন্ন সাংগঠনিক সমস্যা সমাধানে দায়িত্বশীল ও সাবেক সভাপতি হিসেবে ইতিবাচক ভূমিকা পালন না করে তিনি বিভিন্ন শাখার দায়িত্বশীলদের সঙ্গে এমন কিছু বক্তব্য প্রদান করেন, যা পরিস্থিতি আরও জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কয়েকজন সদস্যকে বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদানের অভিযোগও পাওয়া যায়।
৭। সংগঠনের আর্থিক লেনদেন ও হিসাব-নিকাশের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন ও অসন্তোষের বিষয় উঠে এসেছে। এছাড়া সংগঠনের অভ্যন্তরে গ্রুপিং ও বিভাজন সৃষ্টি এবং নারী সদস্যদের নিয়ে অশোভন বা কটূক্তিমূলক মন্তব্যের অভিযোগের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সন্তোষজনক ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করতে ব্যর্থ হন। একইসঙ্গে তিনি তার বক্তব্যে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নির্দোষ প্রমাণ করার মতো সুস্পষ্ট অবস্থানও গ্রহণ করেননি।
উপরোক্ত বিষয়সমূহ পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, মুহম্মদ সজীব প্রধান তার দায়িত্ব পালনকালীন ও পরবর্তী সময়ে সংগঠনের শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক গোপনীয়তা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সাংগঠনিক ঐক্য এবং দায়িত্বশীল আচরণের মৌলিক নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করেননি। তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সংগঠনের ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা ও ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর এবং সংগঠনের স্বার্থের পরিপন্থী বলে বিবেচিত হয়েছে।
অতএব,
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের গঠনতন্ত্র, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, প্রচলিত নীতিমালা এবং সংগঠনের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে উপদেষ্টা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তক্রমে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো:
ক) মুহম্মদ সজীব প্রধানকে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সকল সাংগঠনিক পদ, দায়িত্ব ও প্রতিনিধিত্ব থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।
খ) ২০২৫-২৬ কার্যবছরে তিনি বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে যে দায়িত্ব পালন করেছেন, তার উক্ত মেয়াদকালীন সভাপতির পদমর্যাদা ও সাংগঠনিক স্বীকৃতি বাতিল ও অযোগ্য ঘোষণা করা হলো।
গ) বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের প্রাথমিক সদস্য হিসেবে তার সদস্যপদ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হলো। ভবিষ্যতে তিনি সংগঠনের কোনো শাখা, পর্ষদ, কমিটি বা সাংগঠনিক কাঠামোর কোনো পদে দায়িত্ব পালন, প্রতিনিধিত্ব বা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
ঘ) সংগঠনের কোনো কার্যক্রম, সভা, অনুষ্ঠান, কমিটি বা সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে তার কোনো প্রকার প্রতিনিধিত্ব বা সাংগঠনিক কর্তৃত্ব থাকবে না।
ঙ) সংগঠনের সকল শাখা, পর্ষদ, দায়িত্বশীল ও সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করা যাচ্ছে যে, উপরোক্ত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মুহম্মদ সজীব প্রধানকে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের কোনো সাংগঠনিক পদাধিকারী, প্রতিনিধি বা সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
চ) সংগঠনের ভাবমূর্তি, শৃঙ্খলা ও ঐক্য বিনষ্ট করে এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার জন্য সকল সদস্যকে সতর্ক থাকার এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও গোপনীয়তা যথাযথভাবে সংরক্ষণের নির্দেশনা প্রদান করা হলো।
এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর অনতিবিলম্বে সিদ্ধান্তসমূহ কার্যকর হবে।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, ঐক্য ও স্বার্থ সংরক্ষণে সকলের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।

