বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

অদম্য তরুণের অনন্য উদ্যোগ

Author

এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ (কুষ্টিয়া-৭০০৩)

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২২ পাঠ: ৪৩ বার

এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ

ছোট্ট একটি পাটকাঠির ঘর। ঘরটির ভেতরে কাঠের টেবিলের ওপরে নির্দিষ্ট মাপের সারি সারি কৌটা সাজিয়ে রাখা। এসব কৌটার কোনোটিতে রয়েছে বিলুপ্ত প্রায় উদ্ভিদের বীজ। কোনো কোনোটিতে রয়েছে নদীর পানি। আবার কোনোটিতে ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা, গ্রানাইট পাথর, বিভিন্ন পতঙ্গের বাসা, নানা মাটির নমুনা ইত্যাদি জিনিস। ঘরটির দেয়ালে সেঁটে দেওয়া হয়েছে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নানা গুরুত্বপূর্ণ সচিত্র তথ্য। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়গুলো খুব সাধারণ মনে হলেও বিশাল তাৎপর্য বহন করছে ছোট্ট এই ঘরটি। বলছি, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ছোট একটি জেলা মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মদনপুর গ্রামে অবস্থিত ‘পরিবেশ ও জলবায়ু জাদুঘর’ এর কথা।

পৃথিবীতে জাদুঘর তো অনেকই আছে এবং সেসব জাদুঘরের কোনো কোনোটি আমরা অনেকেই দেখেছি। কিন্তু আজ আমরা যে জাদুঘরটির কথা বলছি, এ ধরনের জাদুঘরের সঙ্গে আমরা কেউই পরিচিত নই। পরিচিত থাকব কী করে, কারণ জাদুঘরটির প্রতিষ্ঠাতার ভাষ্যমতে এটাই পৃথিবীর প্রথম ও একমাত্র ‘পরিবেশ ও জলবায়ু জাদুঘর’!

শহুরে যান্ত্রিক পরিবেশ থেকে বেশ খানিকটা দূরে ছায়া ঢাকা এক নিভৃত পল্লীতে বিরল এই জাদুঘরটি গড়ে তুলেছেন স্থানীয় এক তরুণ; শাহীন রেজা রাসেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করার পর পেশায় তিনি শিল্পকলা একাডেমির একজন সহকারী পরিচালক। এলাকায় কবি রাসেল বলেই তার পরিচিতি বেশি। চিকিৎসাহীন দুরারোগ্য ব্যাধি ‘মাসকুলার ডিসট্রফি’তে আক্রান্ত অদম্য এই তরুণ নিজের সৃষ্টিশীল চিন্তা এবং সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরার পাশাপাশি, এই বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতেই এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ২০২১ সালে সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন বিরল এই জাদুঘরটি।

পরিবেশ রক্ষাই মূলমন্ত্র। তাই সংগৃহীত নমুনা সংরক্ষণের ঘর তথা জাদুঘরটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। নানা নদীর পানি, মাটির উপকরণ, ধানের উপকরণ, বিভিন্ন ফসলের বীজের উপকরণ, নানা কাঠের নমুনা, ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা, গ্রানাইট পাথর, বিভিন্ন পতঙ্গের বাসার নমুনা, বিলুপ্তপ্রায় হরেক উদ্ভিদের পাতাসহ প্রাসঙ্গিক নানাবিধ দুই শতাধিক উপকরণ স্থান পেয়েছে পরিবেশবান্ধব ঘরটিতে। ঘরের ভেতরের দেয়ালে জলবায়ু পরিবর্তন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ, পরিবেশ ও পরিবেশ দূষণ, দুর্যোগ, সমুদ্র, পাখি, বাস্তুতন্ত্র, প্রাণী, উদ্ভিদ ইত্যাদি তথা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলোকে সচিত্র তথ্যের মাধ্যমে সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেন দর্শনার্থীরা পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সম্যক ধারণা অর্জন করতে পারে।

জাদুঘরটির প্রতিষ্ঠাতা বলেন, বিশ্বজুড়ে অস্বাভাবিক ভাবে পরিবর্তন হচ্ছে জলবায়ু। যার প্রভাবে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে বিশ্ব। আর জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছে বাংলাদেশ। চলমান এ পরিস্থিতি রুখতে; মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্যই এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করেছি।

উদ্যমী এই তরুণ আরো বলেন, আমার মনে হয়েছে পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে সবচেয়ে বেশি কাজ হওয়া উচিত। এখান থেকেই আমার ভাবনা… পৃথিবীর প্রথম পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক জাদুঘর বাংলাদেশেই হওয়া উচিত এবং আমি সেটাই করেছি। স্বপ্নটা সমুদ্রসম কিন্তু বাস্তবায়ন করতে পেরেছি বিন্দু পরিমাণ। পরিবেশ নিয়ে কাজ করছি বহু বছর ধরে। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা করেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সংগঠন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ সংসদ’। আর ২০২১-এর সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠা করলাম পৃথিবীর প্রথম ‘পরিবেশ ও জলবায়ু জাদুঘর’। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপকরণে খুব ছোট্ট পরিসরে তৈরি করেছি এটি। পৃথিবীর সব নদী, সাগর-উপসাগরের পানিসহ পরিবেশগত যত উপকরণ রয়েছে সব কিছুর নমুনা এই জাদুঘরটিতে থাকবে। কেবল সূচনা; বলা যায় একটি ছোট্ট বীজ বপন করেছি মাত্র। এক দিন মহীরুহে পরিণত হবে এই জাদুঘর।

নিভৃত পল্লীর ছোট্ট এই জাদুঘরটি দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত হতে মানুষ ছুটে আসছে। তবে এসব দর্শকের বেশির ভাগই বিভিন্ন স্কুল এবং কলেজের শিক্ষার্থী। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এসব দর্শনার্থীদের জন্য খোলা রাখা হয় জাদুঘরটি।

লেখক: সভাপতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৯ জুলাই ২০২২ তারিখে দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।