বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

ফুটবল নৈপুণ্য দেখিয়ে গিনেস-এ ফয়সাল

Author

এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ (কুষ্টিয়া-৭০০৩)

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২০ পাঠ: ৩৭ বার

>> এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ

‘আমার কাঁধে অনেক বড় একটা দায়িত্ব। দেশকে অনেক দূর নিয়ে যেতে চাই। তাই উপজীব্য হিসাবে আপাতত বলটাকেই (Soccer ball) বেছে নিয়েছি।’ কথাগুলো মাগুরার বিস্ময়বালক ফয়সালের।

মো. মাহমুদুল হাসান ফয়সাল। লেখাপড়া করছেন মাগুরা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে মেকাট্রনিক্স টেকনোলজি বিভাগে ডিপ্লোমা প্রকৌশলে। লেখাপড়ার পাশাপাশি মাত্র সতের বছর বয়সেই করেছেন বাজিমাত। নানাবিধ জটিল কসরতপূর্ণ ফুটবল নৈপুণ্য দেখিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়ে চার চারবার নাম লিখিয়েছেন গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। কোনো পেশাদার প্রশিক্ষণ ছাড়াই তিনি গড়েছেন এসব কীর্তি।

তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো, আগামীতে আরো নতুন রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্রিস্টাইলার ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপে অংশ নিয়ে প্রিয় জন্মভূমির নাম বিশ্বদরবারে আরো উঁচুতে তুলে ধরা। শুধু স্বপ্ন দেখেই ফয়সাল থেমে নেই; স্বপ্নযাত্রা ছুটছেই ফয়সালের। লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত করছেন অনুশীলন। এই অনুশীলনের মাধ্যমেই তিনি পোষ মানিয়ে নিয়েছেন ফুটবলকে। বলকে তিনি যেভাবে ঘুরাতে চান সেভাবেই ঘোরে তার কাছে। ফুটবল যেন এখন তার হাতের মোয়া। লক্ষ্য একটাই- লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। স্বপ্নটা অনেকের কাছেই আজব মনে হতে পারে। কিন্তু ফয়সালের কাছে এখন জীবনের অন্য নাম ফ্রিস্টাইলে ফুটবল অনুশীলন। ছেলেবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি প্রচন্ড রকম আগ্রহ ফয়সালের। ইচ্ছে ছিল ভালো ক্রিকেটার হওয়া। পরিবারের অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্বপ্ন দেখতেন ক্রিকেটার হওয়ার। কিন্তু দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও সেখানে পাননি কাঙ্ক্ষিত

সফলতা। এরই মধ্যে মাথায় চাপে ফ্রিস্টাইলার ফুটবলার হওয়ার ভূত। শুরু করে দেন ফুটবল নিয়ে নানা কলাকৌশল আয়ত্বে আনার জন্য কঠোর অধ্যবসায়। দিনে

১২-১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অনুশীলনও করেছেন। এক বছরের মাথায় ২০১৮ সালের আগস্টে আসে প্রথম সফলতা। মাত্র ৬০ সেকেন্ডে ১৩৪ বার বাহুর ওপরে ফুটবল ঘুরিয়ে (মোস্ট ফুটবল আর্থ রোলস ইন ওয়ান মিনিট) প্রথমবারের মতো গিনেস বুকে রেকর্ড গড়েন ফয়সাল। দ্বিতীয় রেকর্ড গড়েন প্রথমটির চার মাস পরেই, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। এই রেকর্ডটি ছিল একই সময়ে দুই হাতের মাঝে ১৪৪ বার বাস্কেটবল ঘুরিয়ে (মোস্ট বাস্কেটবল আর্ম রোলস ইন ওয়ান মিনিট)। এরপর ২০১৯ সালের মে মাসে ‘মোস্ট নেক ক্যাচেস’ ইভেন্টে এক মিনিটে ৩৪ বার বাস্কেটবল খুঁড়ে দিয়ে আবার তা ঘাড়ে লুফে নেওয়ার মাধ্যমে সুযোগ পান তৃতীয় রেকর্ড করার। সর্বশেষ, একই বছরের ডিসেম্বরে এক মিনিটে ৬৬ বার ঘাড়ের উপর ফুটবল ঘুরিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্ব রেকর্ডের মালিক হয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে মাত্র দু’বছরের মধ্যে চারবার বাংলাদেশের নাম গিনেস বুকের তালিকায় লিখিয়েছেন স্বপ্নবাজ এ তরুণ। আরো বড় সাফল্যের আশায় মুখিয়ে রয়েছেন তিনি সামনের দিনগুলোর দিকে। নতুন কোনো রেকর্ড অপেক্ষা করছে তার জন্য।

সম্ভাবনাময় এ ফুটবল ফ্রিস্টাইলার জানান, নিজেকে প্রস্তুত করে মাতৃভূমির লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে দাঁড়াতে চাই ফ্রিস্টাইলের বিশ্বমঞ্চে। গিনেস বুকে সবচাইতে বেশিবার নিজের দেশের নাম লেখানোর স্বপ্ন দেখি। কিন্তু আমার কোনো প্রশিক্ষক নেই। তেমন কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও অনেক দূর যেতে পারব বলে বিশ্বাস করি।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

লেখক: সভাপতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২১ অক্টোবর ২০২০ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।